অনন্যময়ী পর্ব_৪২
#সানজিতা_তুল_জান্নাত
বেলকনির দরজায় কারো উপস্থিতি টের পেয়ে অনি তাড়াহুড়ো করে তার চোখ মুছে নেয়। চোখ মুছে সে পিছনে তাকাতেই রিশাদকে দেখতে পায়।
অনির দিকে তাকাতেই রিশাদের চোখে পড়ে তার আর্দ্র চোখ। পাপড়িগুলো এখনো ভেজা। রিশাদের বুঝতে অসুবিধা হয়না যে অনি কাঁদছিল। অনির অশ্রুসিক্ত নয়ন রিশাদকে বেশ ভালোভাবেই আঘাত করে। এক মূহুর্তের জন্য যেন তার দম বন্ধ হয়ে আসে।
রিশাদকে চুপচাপ থাকতে দেখে অনি বলে;
–“আপনি এখানে??আমাকে কিছু বলবেন?”(অনি)
–“না কিছুনা।”(রিশাদ)
–“আপনি আজ অফিস গেলেন না কেন?”(অনি)
–“এমনিই আর কি।”(রিশাদ)
–“এখনো মনে হয় ব্রেকফাস্ট করা হয়নি আপনার।”(অনি)
–“হ্যা একটু পর ব্রেকফাস্ট করবো।(রিশাদ)
–“দশটা বাজতেছে প্রায়। আর আপনার একটু পর একটু পর বলা শেষ হচ্ছে না।মামনিও তো আপনাকে কত বার খেতে বললো।কি হয়েছে বলুন তো। খেলেন না কেন?আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিল বলে কি খেলেন না?চিন্তা করবেন না আর বেশিদিন আপনার আদরে ভাগ বসাবো। খুব তাড়াতাড়িই চলে যাবো। (অনি) বলেই অনি এক ভুবন ভোলানো হাসি দেয়। অস্বাভাবিক রহস্যময়ী হাসি। যার মাধ্যমে সে কষ্টগুলো আড়াল করে নিজেকে হাল্কা করার চেষ্টা করছে।
রিশাদ অনির রহস্যময়ী হাসির দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। অনির প্রতিটা কথাই তার কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
সে তো চায় অনি তার সবকিছুতে ভাগ বসাক। তার উপর আধিপত্য বিস্তার করুক। অধিকারবোধ প্রয়োগ করুক। কিন্তু না সে তো ভেবেছে তার আদরে ভাগ বসানোতে রিশাদ বোধ হয় নারাজ হয়েছে। কি সুন্দরভাবে রিশাদের অনুভূতি গুলো অনির সামনে মাটিচাপা পড়ে গেল।
মানুষের কথার সাথে সব সময় তার মনের মিল থাকেনা। কখনো কখনো মানুষ তার মনের চেয়ে পরিস্থিতির দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। রিশাদ ধরেই নিয়েছে অনি তাকে তার জীবনে চায়না তাই বোধ হয় অনির এমন অস্বাভাবিক কথার গভীরতা বোঝার চেষ্টা করেনি। যদি চেষ্টা করতো তাহলে গল্পটা অন্যরকম হয়ে যেতে পারতো।
কিছুক্ষণ টুকটাক কথা বলে অনি রিশাদ একে অপরের সাথে। এরপর তারা রুমে চলে যায়। রিশাদ রুমে গিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখতে পায় জয়ের অনেকগুলো মিসড কল। তখন জয়ের কল পেয়ে সে ফোনটা সাইলেন্ট করে রেখেছিল। তারপর সে জয়ের ব্যাপারটা ভুলেই গেছে। এদিকে অনেকবার জয় কল দিয়েছে।
তাড়াতাড়ি করে জয়কে কলব্যাক করে রিশাদ। প্রোজেক্টের একটা জরুরী কাজের জন্য তাকে কল দিয়েছিল। কিন্তু সে কল রিসিভ না করায় কাজটা আটকে আছে। এখন যদি সে না যায় তাহলে কিছুতেই আর কাজটা আগাবে না। তাই সে না চাওয়া সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে রেডি হয়ে বেরিয়ে যায়। অনিকেও এখন সুস্থই মনে হচ্ছে রিশাদের।
রিশাদ বেরিয়ে যাওয়ার পর অনি কিছুক্ষণ বই নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। মূলত সে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছে যাতে রিশাদের কথা বার বার মনে না পড়ে। কিন্থ সেখানেও সে ভালোভাবে মনোযোগ দিতে পারছে না।
একটু পরেই জাহানারা বেগমের কল আসে। ভিসার কাগজ পত্রের জন্য তাকে জাহানারা বেগমের সাথে যেতে হবে। অনি তার দিদাকে বলে এয়ারলাইন্স এজেন্সিতে যাওয়ার সময় যেন তাকে পিক আপ করে নেয়।
ভিসার কথা শুনে অনি পুনরায় ভাবনায় পরে যায়। তবে সে নিজেকে তার সিদ্ধান্তে স্থির রেখেছে। এইসব কিছু থেকে যত দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারবে তার জন্য ততই ভালো। চাইলেই কি সব সম্ভব? বিয়ের মতো পবিত্র হালাল সম্পর্ক কি চাইলেই ছিন্ন করা যায়?
কোন প্রশ্নের জবাব নেই অনির কাছে। চোখ বুজে বড় করে শ্বাস নেয় অনি স্ট্রেস কমানোর জন্য।
কিছুক্ষণ পর বইপত্র সব গুছিয়ে রেখে অনি গোসল সেরে নেয়। ওয়ারড্রব খুলে কাপড় বের করতে করতে মনে হয় অনির শায়লা বেগমকে এখনও জানানো হয়নি ইংল্যান্ডে ফেরার কথা। রিশাদ অবশ্য কালকে বলেছিল যে সে তার মায়ের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবে। কথা বলেছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় অনি।
কাপড় বের করে বিছানার ওপর রেখে অনি শায়লা বেগমের রুমের দিকে যায়। শায়লা বেগম রুমে টুকটাক কাজ করছিলেন। অনি দরজায় নক করে বলে;
–“মামনি আসবো?”(অনি)
–“হ্যা আয়। কতবার বলবো তোকে নক করতে হবে না।”(শায়লা বেগম)
অনি মিষ্টি হেসে রুমে প্রবেশ করে।
–“মামনি তোমার সাথে একটা কথা ছিল।”(অনি)
–“হ্যা বল।”(শায়লা বেগম)
–“মামনি সামনেই আমার সেমিস্টার ফাইনাল এক্সাম। আমাকে কয়েকদিনের মধ্যেই ইংল্যান্ডে ব্যাক করতে হবে। “(অনি)
–“মানে?তুই চলে যাবি?”(শায়লা বেগম)
–“আসলে মামনি সামনেই আমার এক্সাম। ভ্যাকেশনও শেষ হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগেই।এখন না ফিরতে পারলে আমাকে এক্সামে বসতে দেবে না।”(অনি)
অনির কথা শুনে শায়লা বেগম পুরাই থ বনে যায়। তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। অনি চলে যাবে মানে টা কি।
শায়লা বেগম বুঝে উঠতে পারছেন না কি জবাব দেবেন। তিনি অনির দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।
–“এখন গেলে আবার কবে ফিরবি?”(শায়লা বেগম)
শায়লা বেগমের কথায় অনি কিছুটা চিন্তায় পড়ে যায়। সে তো একেবারে এখান থেকে চলে যেতে চায়। তাহলে ফেরার প্রশ্ন কোথা থেকে আসে। অবশ্য শায়লা বেগম বোধ হয় ভেবেছেন অনি এক্সাম শেষে আবার ফিরে আসবে।
–“ভার্সিটি ক্লাস,এক্সাম শেষ হতে প্রায় দুমাসের মতো সময় লাগবে। এরপর যদি ছুটি থাকে তবেই আসতে পারবো।”(অনি)
কিছু বুঝতে পারছেন না তিনি। শায়লা বেগমের সাথে কথা বলতে বলতেই জাহানারা বেগম চলে আসেন। আমেনার মা এসে জাহানারা বেগমের আগমনের খবর দেয়।
শায়লা বেগম অনিকে বলেন তিনি জাহানারা বেগমের সাথে কথা বলবেন এ বিষয়ে। অনি তার কথায় সম্মতি জানায়।
জাহানারা বেগমকে উপরে রুমে নিয়ে আসেন শায়লা। তিনি শায়লাকে সবটা খুলে বলেন। শায়লা বেগম জাহানারা বেগমের কথায় কিছুটা আশ্বস্ত হন। তবুও তিনি রিশাদ আর রায়হান সাহেবের সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে চান। তার মাথায় অন্য একটা কথা ঘুরছে।
রিশাদ অনি বিয়ের পর থেকে কোথাও যাওয়া হয়নি একসাথে। তাই শায়লা বেগম ভাবছিলেন রিশাদ অনি যদি একসাথে যায়। এই সুযোগে তাদের একটু ঘোরাও হবে। কিন্তু রিশাদ কি যেতে রাজি হবে? এ বিষয়ে আজই তার সাথে কথা বলতে হবে।
শায়লা বেগমের প্রস্তাবটা জাহানারা বেগমের বেশ মনে ধরেছে। তাই তিনিও সায় জানান। তবে অনিকে এ ব্যাপারে এখনো কিছু বলা হয়নি। আগে রিশাদের সাথে কথা বলতে হবে।
কিছুক্ষণ পরেই জাহানারা বেগম অনিকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। অনি জানে না তাদের মধ্যে কি কথা হয়েছে। সে জানার চেষ্টাও করে না।
অনি আর জাহানারা বেগম এয়ারলাইন্স এজেন্সিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সব ঠিক করে ভিসার জন্য সাবমিট করে। অনি ইংল্যান্ড এর সিটিজেন হওয়ায় তার ভিসা পেতে বেশি বেগ পেতে হবে না। তবে জাহানারা বেগমের জন্যই কিছুটা দেরি হবে। আরো সপ্তাহখানেক এর মতো সে এদেশে আছে। বিকেলের আগেই অনির সকল কাজ শেষ হয়ে যায়। জাহানারা বেগমের সাথে অনি ওই বাড়িতে যায়।
বাড়িতে ঢুকতেই অনামিকা শেখের মুখোমুখি হয় অনি। অনামিকা শেখ সোফায় বসে ছিলেন। অনিকে দেখে তিনি কিছুটা অবাক হন। তবে জাহানারা বেগমের কাছে অনির শরীর খারাপের ব্যাপারটা শুনে অনিকে দেখার জন্য তিনিও বেশ বিচলিত হয়ে ছিলেন।
–“আসসালামু আলাইকুম।”(অনি)
–“ওয়ালাইকুমুস সালাম। কেমন আছো এখন?শুনলাম তোমার শরীর খারাপ।এখন ঠিক আছো?”(অনামিকা)
–“জি আলহামদুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন?”(অনি)
–“হ্যা ভালো আছি। বসো না এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”(অনামিকা)
–“না থাক বসবো না।বাবা কোথায়?”(অনি)
–“অফিসে গেছেন। এইতো একটু পরেই আসবে।”(অনামিকা)
–“ওহ আচ্ছা।”(অনি) বলেই অনি উপরের দিকে নিজের রুমে চলে যায়।
অনামিকা অনির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকেন। কি সাবলীল ভাবে অনন্যময়ী তাকে উপেক্ষা করে চলে গেল। অনামিকা শুধুই তাকিয়ে থাকেন। মস্তিষ্ক যেন শব্দশুন্য,বিরান,নির্জন।
অনন্যময়ী উপরে উঠে নিজের রুমের দিকে যায়। এবাড়িতে আসার পর থেকে সে খুব বেশি মিস করছে অদ্রিকে। দেশে আসার পর থেকে অদ্রির সাথে কাটানো কয়েকটা দিনই তাকে মিস করার জন্য যথেষ্ট।
অনি নিজের রুমে গিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নেয়।অদ্রির কথাটাই তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। একবারও অদ্রির সাথে যোগাযোগ কর হয়নি। অবশ্য অদ্রির উপর অভিমান হয়েছিল বলেই সে আর যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি। অদ্রিও তার সাথে কোনরকম যোগাযোগ করেনি। বার বার সোশ্যাল মিডিয়ায় চেক করে সে অদ্রির আইডি ডিএক্টিভ পেয়েছে।
আজও মোবাইলটা হাতে নিয়ে সে আরেকবার চেক করে।কিন্তু কোন লাভ হয়না। হতাশ হয়ে বসে থাকে অনি।ফ্রেশ হয়ে আসে। এরপর অনি একটু বিছানায় শুয়ে থেকে খানিকক্ষণ জিরিয়ে নেয়।
আছরের আযান দিলে অনি বিছানা ছেড়ে ওঠে।অজু করে এসে নামাজ পড়ে নেয় সে। রুম থেকে বেরিয়ে জাহানারা বেগমের রুমের দিকে যায়।
জাহানারা বেগমও অনির খোঁজেই যাচ্ছিলেন। অনির এখনো কিছু খাওয়া হয়নি। নিচে থেকে রান্নার তদারকি করে আসছিলেন। রান্নাঘরে গিয়ে তিনি বেশ অবাক হন। অনামিকা আগে থেকেই রান্নার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন। তাই আর জাহানারা বেগম সেদিকে যান না।
উপরে এসে অনির সাথে দেখা হলে তাকে তিনি নিচে পাঠিয়ে দেন। তার বাবা আশরাফ শেখ এসেছেন। অনির সাথে দেখা করার জন্য উপরে আসতে চাইলে জাহানারা তাকে বলেন অনিকে গিয়ে আমি ডেকে আনছি।
জাহানারা বেগম অনিকে নিচে পাঠিয়ে দেন। নিজে আর নিচে না নেমে রুমে যান। অনি নিচে নেমে তার বাবা আশরাফ শেখের সাথে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করে। আশরাফ সাহেবের সাথে অনেকক্ষণ ধরে গল্প করে অনি। প্রতিদিন ফোনে কথা হলেও বেশ কয়েকদিন পর দেখা হয়েছে আশরাফ সাহেবের সাথে।
জাহানারা বেগম রুমে গিয়ে রিশাদকে ফোন করেন। রিশাদকে এখানে আসতে বলে। রিশাদ প্রথমে আসতে না চাইলেও জাহানারা বেগমের কথা ফেলতে পারে না। জাহানারা বেগম তাকে বলে অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় তাকে বাসায় নিয়ে যেতে আর রিশাদের সাথে তার জরুরী কিছু কথাও আছে বলে জানায়।
রান্না শেষ করে ড্রইংরুমে আসেন অনামিকা যেখানে আগে থেকেই গল্প করছিল অনিরা। অনামিকা বিশেষ দিনগুলো ব্যতীত রান্না করে না। আজ অনি এসেছে উপলক্ষে রান্না করেছে। ব্যাপারটা অনির কাছে কেমন অদ্ভুত লাগে। তবে সে তা অপ্রকাশিতই রাখে।
অনামিকা এসে সবাইকে খাওয়ার জন্য ডাকে। অনি আশরাফ শেখ, জাহানারা বেগম আর অনামিকা সবাই এক সাথে খেতে বসে। আশরাফ শেখের একপাশে বসে অনামিকা অপর পাশে বসে অনি। অনির পাশে জাহানারা বেগম।
অনির সামনে প্লেট দিতে নিলে আশরাফ শেখ তা সরিয়ে দেয়। তিনি নিজের প্লেটে অনির পছন্দের সব খাবার তুলে নিয়ে ভাত মাখিয়ে তাকে তুলে খাওয়ান। অনি বেশ তৃপ্তি নিয়ে খায়। জাহানারা বেগম এক গাল হেসে নিজেও খেতে শুরু করেন।
অন্যদিকে অনামিকা একটু পর পর অনি আর আশরাফের দিকে তাকাচ্ছে। কিভাবে আশরাফ তাকে আপন করে নিয়েছে। কোন রক্তের সম্পর্ক নেই তবুও সে একজন আদর্শ পিতার দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু অনামিকা?সে তো পারেনি তার কোন দায়িত্ব পালন করতে। সে তার এই ক্ষুদ্র জীবনে একজন মানুষ হিসেবে ব্যর্থ, মা হিসেবে ব্যর্থ, একজন সন্তান হিসেবে ব্যর্থ,একজন বোন হিসেবে ব্যর্থ। বোধ হয় একজন স্ত্রী হিসেবেও ব্যর্থ।
অনামিকার গলা দিয়ে খাবার নামছে না। অশ্রুগুলো চোখ ফেটে বেরিয়ে আসার উপক্রম। যেকোন মূহুর্তে বেরিয়ে আসতে পারে। অনামিকা অশ্রু সংবরণ করে নেয়। খুব কষ্টে কয়েক লোকমা ভাত মুখে দেয়।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে উপরে রুমে যায় অনি। কিছুক্ষণ একটু জিরিয়ে নেয়।পাশাপাশি ইলিয়ানা আর মোনালিসার সাথে ফোনে কথা বলে।
একটু পরেই ডাক পড়ে। জাহানারা বেগম তাকে নিচে ডাকছেন। অনির উঠতে মন চাইছিল না। জাহানারা বেগমের ডাক শুনেও বিছানায় শুয়ে থাকে। কোন সাড়া দেয় না। কিছুক্ষণ পর একরাশ বিরক্তি নিয়ে উঠে পড়ে অনি।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে নিচের দিকে চোখ যায় তার।সোফায় বসে আছে কেউ একজন। তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। অনি পেছন দিক থেকে বুঝতে পারছে না কে। জাহানারা বেগম সহ বাড়ির সবাই সেখানে উপস্থিত। কৌতূহল নিয়ে নিচে নামে।
চলবে…
আসসালামু আলাইকুম?।রাতে আরেকটা বোনাস পার্ট দিব। ইচ্ছা করেই ছোট করে দিছি?।
অনন্যময়ী
সানজিতা_তুল_জান্নাত
বোনাস_পার্ট
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে নিচের দিকে চোখ যায় তার।সোফায় বসে আছে কেউ একজন। তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। অনি পেছন দিক থেকে বুঝতে পারছে না কে। জাহানারা বেগম সহ বাড়ির সবাই সেখানে উপস্থিত। কৌতূহল নিয়ে নিচে নামে।
শেষ সিঁড়িটা পার করতেই অনির কানে ভেসে আসে সোফায় বসে থাকা ব্যক্তিটির কণ্ঠস্বর। যার মাধ্যমে সে নিশ্চিত হয়ে যায় সে রিশাদ ছাড়া আর কেউই না। কয়েক সেকেন্ড থেমে সে পুনরায় এগিয়ে যায়।
একপাশে বসে আছে অনামিকা আরেকপাশে বসেছে আশরাফ শেখ আর জাহানারা বেগম পাশাপাশি। শুধু ফাঁকা আছে অনামিকা আর রিশাদের পাশের জায়গা। অনি একবার অনামিকার দিকে তাকায়। অনামিকার নজর তখন তার দিকে ছিল না। এতে যেন অনি বেশ স্বস্তি পায়।
অনি কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে রিশাদের পাশে বসে পড়ে। তার মনে প্রশ্ন জাগে রিশাদ কেন এখানে। সে মূলত রিশাদের সামনা সামনি পড়তে চায়না বলেই এবাড়িতে এসেছিল। তার মনের কথা তো কেউ জানে না।
উপস্থিত সবার কথাবার্তার মাধ্যমে অনির কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় রিশাদকে জাহানারা বেগমই এবাড়িতে আসতে বলেছেন। মূলত সে এসেছিল অনিকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু অনি?অনি তো এসেছিল ক’টা দিন এখানে থাক্র উদ্দেশ্যে। আর এখানে কেন থাকতে চায় তা তো একেবারে স্পষ্ট। রিশাদের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকতে চায় সে।
রিশাদ বেশ চুপ চাপ আছে। এবাড়িতে আসার পর থেকে তার বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল। পুরনো কিছু কথা বার বার মস্তিষ্কে উঁকি দিচ্ছিল। এবাড়িতে অনেক বার এসেছে। তখন কতটা সহজ ভাবে মিশে গিয়েছিল সবার মাঝে। সম্পর্ক গুলোও ছিল সাবলীল। অদৃশ্য আড়ষ্টতা সবাইকে যেন ঘিরে ধরেছে। সরল সমীকরণ যেন সেই এক রাতেই জটিল হয়ে গেছে।
রিশাদ সংকোচ কাটিয়ে যথাসম্ভব চেষ্টা করছে সবার সাথে সহজ ব্যবহার করতে। অনি মাঝে মাঝে রিশাদের দিকে তাকাচ্ছে। রিশাদের হাবভাব দেখে তার বোঝার চেষ্টা করছে তার মধ্যে কি চলছে। তবে সে বিশেষ কিছু বুঝতে পারেনা।
রিশাদের অস্বস্তির অবসান ঘটে যখন জাহানারা বেগম অনিকে বলেন রিশাদকে উপরে নিয়ে গিয়ে ফ্রেশ হতে। অনিও কোন বাক্যব্যয় না করে জাহানারা বেগমের কথামতো উপরে চলে যায়। রিশাদও অনির সাথে উপরে চলে যায়।
রিশাদকে নিয়ে অনি তার নিজের রুমে যায়। কেউ কারো সাথে কোন কথা বলে না। রিশাদ অনির মনোভাব ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। কেমন একটা যেন তাকে এড়িয়ে চলছে সেটা সে কিছুটা আঁচ করতে পেরেছে। কিন্তু কেন তা বুঝতে পারছে না।
রুমে গিয়ে অনি রিশাদের হাতে একটা টাওয়েল ধরিয়ে দেয়। রিশাদ ফ্রেশ হতে যায়। অনি রিশাদের জন্য খাবার আনার বাহানা দিয়ে নিচে নামে।
অনামিকা আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। অনি নিচে নামতেই অনামিকা শেখ বলেনঃ
–“তুমি আবার নিচে আসলে কেন?আমি তো এক্ষুণি রিশাদের জন্য খাবার উপরেই পাঠাচ্ছিলাম।”(অনামিকা)
অনি মূলত খাবার নেয়ার জন্য নিচে আসলেও তার এখন রুমে যাওয়ার কোন ইচ্ছাই ছিল না। এদিকে অনামিকা শেখও তাকে ছাড়ার পাত্রী নন। অনামিকাকে কিছু বলতে না পেরে অনি রিশাদের জন্য খাবার নিয়ে উপরের চলে যায়।
রিশাদ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছিল। অনিকে আসতে দেখে সে হেয়ার ব্রাশটা ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে অনির দিকে ফেরে।
–“খেয়ে নিন।দুপুরেও কিছু খাননি।”(অনি)
–“এই অবেলায় আমার কিচ্ছু খেতে মন চাচ্ছে না। আপনি জাস্ট আমাকে এক কাপ কফি দিন তাহলেই হবে। আমি পরে বাসায় যেয়ে খেয়ে নেব।”(রিশাদ)
অনি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে। চোখ দুটো কুঞ্চিত হয়ে গেছে। রিশাদ অনির এমন চাহনির মানে বোঝে। তাই কিছুটা অসহায় মুখ করে থাকে।
–“আপনি তো দুপুরেও খান নি তাহলে এখন খাবেন না কেন?খেতে কি সমস্যা।না খেয়ে থেকে শরীর খারাপ হলে বলবেন শ্বশুড় বাড়ির লোকজন আপনার ঠিকমতো যত্ন নেয়নি। চুপ চাপ খেয়ে নিন।”(অনি)
রিশাদ অনির কথায় বাধ্য হয়ে খেতে খেতে শুরু করে দেয়। ক্ষুধা বসে যাওয়ায় তার খেতে মন চাচ্ছিল না। তবুও অনির জোরাজুরিতে সে অল্প করে খেয়ে নেয়।
সন্ধ্যায় অনি নামাজ পড়ে উঠে রিশাদের জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে যায়। রিশাদ রুমে বসে অলস ভাবে ফোন টিপছিল। রিশাদ অনিকে রুমে আসতে দেখে নড়েচড়ে ওঠে।
অনি রিশাদের হাতে কফির মগ দিলে রিশাদ মুচকি হেসে কফির মগটা হাতে নেয়। রিশাদ যে কফিটা পেয়ে খুশি হয়ে গেছে তা তার চোখ মুখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে তার উপর অনির হাতের কফি।
রিশাদ তৃপ্তি নিয়ে কফির মগে চুমুক দেয়। অনি রিশাদের বিপরীতে সোফায় বসে কফির মগটা হাতে নিয়ে রিশাদের দিকে আড়চোখে তাকায়।
কফি খাওয়া শেষ করে রিশাদ তাকে বাড়ি ফেরার জন্য তাড়া দিতে থাকে। কিন্তু অনি তো ভেবে এসেছিল সে কিছুদিন থাকবে এখানে। শায়লা বেগমও দুবার ফোন দিয়েছিল। তবে যাওয়ার জন্য তাকে বিশেষ জোরাজুরি করেনি। কিন্তু অনির মনে হয়েছে শায়লা বেগম তাকে খুব মিস করছেন।
অনির খুব থাকতে মন চাইলেও তার আর থাকা হয়না। রিশাদের কাল অফিসে খুব জরুরী মিটিং আছে আর তার সব ফাইল ওবাড়িতে আছে। তাই আর থাকা হলো না। অনি রিশাদের এভাবে চলে যাওয়ায় বাড়িতে সবারই মন খারাপ হয়ে যায়। তবে ওদের যাওয়া টাও জরুরি তাই আর কেউ আটকায়নি। তবে রিশাদ অনিকে রেখে যেতে চায়। অনি কিছু একটা ভেবে আর থাকেনা। এতে যেন রিশাদ মনে মনে বেশ খুশিই হয়।
গাড়িতে মন খারাপ করে বসে আছে অনি। রিশাদ ড্রাইভিং সিটে গাড়ি চালাচ্ছে। মাঝে মাঝে অনির দিকে তাকাচ্ছে। অনির মনটা একটু বেশিই খারাপ। এখন মনে হচ্ছে তাকে রেখে আসলেই ভালো হতো। অনির মন খারাপ রিশাদের মাঝেও অস্থিরতার সৃষ্টি করে।
অনি খোলা জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চাহনিতে এক রাশ উদাসীনতা আর কিছু নিরেট অনুভূতি। অনি আনমনেই কিছু একটা ভাবছে। রিশাদ আচমকাই গাড়ি থামানোতে তার ঘোর কাটে। অবাক চাহনিতে অনি রিশাদের দিকে তাকায়।
অনির এই চাহনিতে রিশাদ মারাত্মক ভাবে আকৃষ্ট হয়। শুষ্ক মলিন চোখে এ যেন এক নিরন্তর বেদনা গাঁথা,অন্তহীন গভীরতা। রিশাদের হৃদয়ের গভীর পর্যন্ত ছাপ ফেলে। রিশাদ যেন অনির চোখের গভীরতায় হারিয়ে যায় এর প্রান্তবিন্দু খুঁজতে গিয়ে। ক্রমশ যেন তার ঘোর বেড়েই চলে। রিশাদের ঘোর কেটে যায় গাড়ির সাইড দিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যাওয়া মালবাহী ট্রাকের কর্কশ হর্ণের শব্দ শুনে।
রিশাদের যেন মনে হচ্ছিল সে এই ব্যক্তিকে পেলে হয়তো প্রচলিত আইনের ধারা অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দিয়ে দিত। অপরাধ তার অনন্যময়ীকে দেখার সময় বিঘ্ন সৃষ্টি ঘটিয়েছে।
রিশাদ নিজের এমন আকাশ কুসুম কল্পনায় বেশ।অবাক হয়ে যায়। সাথে কিছুতা লজ্জাও পায়।
অনি কেমন কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে রিশাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। রিশাদের হুট করেজ কখন যে কি হয়ে যায় কিছুই বুঝতে পারে না।
অনি এবার বেশ বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। কিছুটা বিরক্তির সুরে বলেঃ
–“কি হয়েছে?হঠাৎ করে গাড়ি থামালেন কেন?”(অনি)
–“কিছু হয়নি।আপনার মন খারাপ কেন?আপনাকে তো আমি বললাম থাকতে। কাল যাওয়ার সময় নিয়ে যেতাম। আর আপনি চাইলে আরো বেশিও থাকতে পারতেন।চাইলে তো আপনি ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগ পর্যন্তও ওবাড়িতেই থাকতে পারেন।”(রিশাদ)
–“কেন আমি আসাতে কি আপনার ভালো লাগে নি নাকি?”(অনি)রিশাদের কথায় অনির কিছুটা অভিমান হয়। বোধ হয় রিশাদ চায় না অনি ওইবাড়িতে তার সাথে থাকুক।
–“সেটা কখন বললাম?আপনার মন খারাপ তাই আমি বললাম। ভালো কথা বললেও দোষ।”(রিশাদ)
রিশাদের কথায় অনির রাগ হচ্ছে খুব। রাগের কারণটা স্পষ্ট নয়। কিন্তু তার খুব রাগ হচ্ছে। তাই সে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়।
অনির এমন কাজে রিশাদ হতবাক হয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনিকে দেখতে পায় সে হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে।
রিশাদ দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করে দেয়। এখান থেকে তাদের বাসা খুব বেশি দূরে নেয়। অনি হন হন করে হেঁটে যাচ্ছে। অনেক দূর অবধি এগিয়ে গেছে। রিশাদ বড় বড় করে পা ফেলেও অনিকে ধরতে পারেনা। বিধায় সে একরকম দৌঁড়ে অনির পাশে হাঁটতে থাকে।
রিশাদের কোন কথার উত্তর দিচ্ছে না অনি। রিশাদ বার বার তাকে থামতে বলা সত্ত্বেও অনির যেন সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। রিশাদকে এভাবে বার বার ইগনোর করায় কিছুটা রেগে যায় সে।
রাগের বশে জোর করে অনির বাহু চেপে ধরে তাকে সামনাসামনি দাঁড় করায়। রিশাদের জোর করে চেপে ধরায় অনি কিছুটা ব্যথা পায়। তবে কোন শব্দ করে না।
অনির চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। তার নাকের ডগা কাঁপছে। রিশাদ অনিকে নিজের সাথে মিশিয়ে দাঁড় করায়।তাদের মধ্যে চুল পরিমাণ ফাঁক নেই। রিশাদও অনির ব্যবহারে বেশ রেগে আছে। শুধু এখন নয় এর আগেও সে অনেকবার অনুভব করেছে অনি তাকে ইগনোর করছে।
অনির অবহেলা, উপেক্ষা মেনে নেয়া রিশাদের পক্ষে বেশ কষ্টসাধ্য। যদিও সে মুখে বলে অনির উপর তার বিশেষ কোন অধিকার নেই তবে মনেপ্রাণে সে এটাই বিশ্বাস করে অনির উপর এই পৃথিবীতে রিশাদের অধিকারই সবচেয়ে বেশি। অনির বিন্দুমাত্র অবহেলাও সহ্য করা রিশাদের পক্ষে যেন একেবারেই অসহনীয় পীড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার চোখ দুটো অশ্রুতে ভরে যাগ। চোয়াল শক্ত হয়ে আসে।
রিশাদের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য অনি কিছুক্ষণ চেষ্টা করলেও রিশাদের শক্তির কাছে পেরে ওঠে না সে। এক পর্যায়ে হার মেনে নেয়। শান্তভাবে রিশাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।
রিশাদের চোখের দিকে তাকিয়ে অনি কিঞ্চিত ব্যথা অনুভব করে। রিশাদ হাতের বাঁধন আলগা করে দেয়। যেকোন মূহুর্তে যেন তার চোখ ফেটে মানসিক পীড়ার অশ্রুগুলো বেরিয়ে এসে অনিকে জানান দেবে তার প্রতি রিশাদের ভালোবাসার কথা। সে কথা কি অনির মস্তিষ্ক ছাড়িয়ে তার মনে পৌঁছাবে?
রিশাদের এমন করুণ চাহনি অনিকে ভেতর থেকে অস্থির করে দেয়। রিশাদের কষ্টটা যেন সে খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছে। এই কষ্টের কারণটা অনির জানা থাকলেও কোথাও যেন সে মানতে নারাজ। তার মস্তিষ্ক মনের চেয়ে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দ্বারা বেশি প্রভাবিত তাই সে হয়তো রিশাদের নীরব ডাকে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
রিশাদ অশ্রুসিক্ত নয়নে অনির দিকে তাকায়। করুণ কণ্ঠে বলে;
–“এত বেশি অবহেলা কি আমার প্রাপ্য অনন্যময়ী? আমার মনের কথা কি আপনার মন অবধি আজও পৌঁছায়নি নাকি আপনি বুঝেও সেটা না বোঝার ভান করেন। বোধ হয় আপনার যোগ্য নই আমি তাইনা অনন্যময়ী? তাই আজও আমার মনের কথাগুলো বুঝতে পারেন নি। সব কথা কি মুখে বলার প্রয়োজন হয় অনন্যময়ী? কেন এত ইগনোর করছেন আমাকে?কি করেছি আমি?কেন এতটা কষ্ট দিচ্ছেন আমাকে?কয়েক দিন পর তো আপনি চলেই যাবেন এই ক’টা দিন কি আমরা একটু ভালোভাবে থাকতে পারিনা?আমি কি এতটাই অযোগ্য যে আমার ভাগ্যে শুধুই উপেক্ষা আর প্রত্যাখ্যান প্রাপ্য?”
রিশাদের প্রতিটি কথায় অনি মারাত্মক ভাবে আহত হচ্ছে মানসিকভাবে। যার ফল স্বরূপ অশ্রু কণা গাল বেয়ে পড়ছে। কি দারুণ কষ্ট হচ্ছে তার। অথচ রিশাদ ভাবছে অনন্যময়ী বোধ হয় তাকে ইচ্ছে করে কষ্ট দিচ্ছে। সে কি এখনো তার অনন্যময়ী কে ভালো ভাবে চেনেনি?
অনন্যময়ী তো কখনো অবচেতন অবস্থাতেও কাউকে কষ্ট দিতে চাইবে না। কোন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে উপেক্ষা করবে না। সেখানে কি করে রিশাদকে উপেক্ষা করবে। রিশাদ তো তার প্রিয় মানুষগুলোর তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। যাকে বিন্দুমাত্র আঘাত দিলে তা কয়েক গুণ বেশি সে অনুভব করবে।
চলবে………
আসসালামু আলাইকুম?