লেখক মালিহা খান

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ২৫ | রাত্রির মূর্ছা আর নিভ্রানের প্রতিজ্ঞা

হাসপাতালে মায়ের জ্ঞান ফেরায় রাত্রির মুখে হাসি। নিভ্রানের যত্নে সে খায়, মামির নির্লজ্জ আচরণে চিৎকার করে ওঠে। চাপে মূর্ছা যায় রাত্রি। নিভ্রান তাকে বুকে জড়িয়ে মামা-মামীকে সতর্ক করে—“আর একটা কথা বললে ভুলে যাবো সম্পর্ক।” আবেগের প্রবল স্রোতে প্রতিজ্ঞার মুহূর্ত।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ২৬ | রাত্রির বিয়ে আর নিভ্রানের প্রস্তাব

হাসপাতালের কেবিনে অন্ধকারে জাগে রাত্রি, উপরে শুয়ে নিভ্রান। আচমকা বিয়ের প্রস্তাবে বিস্মিত রাত্রি। নিশাদ কাজি সাহেব নিয়ে হাজির। মা-বাবা সম্মত, সবাই প্রস্তুত। হুট করেই সম্পন্ন হয় বিয়ে। মেঘে ডাকে, বৃষ্টি নামার ইঙ্গিতে নিভ্রানের কানে ফিসফিস—"দেখো রাত, আজ বৃষ্টি নামবে।"

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ২৭ | রাত্রির ঘুম আর নিভ্রানের স্নেহ

গাড়িতে ঘুমন্ত রাত্রির মাথা বারবার জানালায় ঠেকছে। নিভ্রান তাকে বুকে জড়িয়ে রাখে। নিশাদের কটাক্ষ, নওশাদ সাহেবের অভিমান। বাড়ি ফিরে নিভ্রান রাত্রিকে শোয়ায়, ঠান্ডা সহ্য না করায় সে ব্ল্যাঙ্কেটে মাথা ঢাকে। নিভ্রান হাসে, এসি আরও কমায়। আবেগের নীরব মুহূর্ত।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ২৮ | রাত্রির জাগরণ আর নিভ্রানের শাড়ির আগ্রহ

রাত্রি নিভ্রানের বাসায় ঘুম থেকে জেগে বিভ্রান্ত। নিশাদের কথায় জানতে পারে নিভ্রান তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছে। নাহিদা শাড়ি দেন, নিভ্রান ব্লাউজ আটকায়। বিকেলে নিভ্রান শাড়ি আর বই নিয়ে আসে। রাত্রি নিজের টাকায় চলতে চায়, নিভ্রান সমর্থন করে। আবেগের মধ্যে স্বাধীনতার কথা।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ২৯ | লাল বেনারসি আর নিভ্রানের প্রতিজ্ঞা

নিভ্রানের আলমারিতে লুকানো লাল বেনারসি শাড়ি খুঁজে পায় রাত্রি। নিভ্রান স্বীকার করে—এটি তার জন্যই কেনা হয়েছিল প্রথম দেখার দিন। রাত্রি কাঁদে আবেগে। নওশাদ সাহেব তাকে সতর্ক করে যান ভবিষ্যতের জন্য। রাতে নিভ্রান তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাত্রিকে কাছে টেনে বলে—"তুমিই আমার একমাত্র উত্তাপ"।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩০ | নিভ্রানের আবেগের উত্তাল সাগর আর রাত্রির লজ্জা

নিভ্রান ঘুম থেকে জেগে রাত্রিকে বুকে জড়িয়ে পায়, আবেগে বিচলিত হয়। নিশাদের ঠাট্টা, রাত্রির চিৎকারে কাটা গাল, ব্যান্ডএইড লাগানোর মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। রাতে রাস্তায় কপালে চুমু, ব্যালকনিতে আলিঙ্গনে আবেগের উত্তাল সাগর। রাত্রি লজ্জায় উশখুশ, নিভ্রান বলে—“আমি বেসামাল হবার পথেই আছি।”

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩১ | নিভ্রানের বউ আর রাত্রির ঝালমুড়ি

নিভ্রান ঘুমের মধ্যে রাত্রিকে জড়িয়ে রাখে। ফোনের বিরক্তি, সকালের আদর, নাস্তায় রান্নার তর্ক। গেটে অপেক্ষায় রাত্রি, আর অজানা ভদ্রলোক রাত্রির জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে হাজির। নিভ্রান জানায়—রাত্রি তার বউ, ছোটবোন নয়। গাড়িতে ফিরে রাত্রি ঝালমুড়ি চিবিয়ে জানতে চায়—কে ছিলেন সেই আংকেল?

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩২ | ভাঙা কারেন্টে রাত্রির ভয় আর নিভ্রানের উন্মাদনা

বৃষ্টির রাতে কারেন্ট চলে যায়, অন্ধকারে ভয়ে কাঁপছে রাত্রি। নিভ্রান তাকে সাহস দেয়, কিন্তু ভেজা চুল, লাগানো জামা আর মেয়েলি গন্ধে নিভ্রানের মন উদ্বেলিত হয়। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সে লড়াই করে নিজের ইচ্ছার সাথে। বজ্রপাতের মধ্যে রাত্রি তাকে খুঁজে পায়, আর এক মুহূর্তে নিভ্রান তাকে জোরে টেনে নেয়।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩৩ | বালকনিতে আবেগের উচ্ছ্বাস আর নিভ্রানের ক্লান্তি

বৃষ্টির রাতে বালকনিতে নিভ্রান ও রাত্রির মধ্যে আবেগের তীব্র মুহূর্ত। ঘনিষ্ঠতায় উন্মাদনা, লজ্জায় মিনমিনে প্রতিক্রিয়া, আর পরদিন সকালে নিভ্রানের ক্লান্তি ও রাত্রির যত্ন। নিভ্রান মায়ের ব্যান্ডেজ খোলার ব্যবস্থা করে, আর রাত্রি তাকে গোসলে পাঠাতে জোর দেয়। আবেগ, যত্ন আর অদৃশ্য টানে ভরা দিন শুরু হয়।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩৪ | রাত্রির জ্ঞানহীনতা আর নিভ্রানের হাসি

রাত্রি নিভ্রানের কাছাকাছি এলে লজ্জায় জ্ঞান হারায়। নিভ্রান তাকে কোলে তুলে নেয় এবং হেসে ফেলে। ঘুমের মধ্যে রাত্রিকে খাওয়ানো হয়, আবেগের টানাপোড়েন চলে। রাতে রাত্রি বাবার কথা নিয়ে কাঁদে, নিভ্রান তাকে শান্ত করে। সকালে নিভ্রান শুক্রবার বাবার বাসায় যাওয়ার কথা ঘোষণা করে।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩৫ | দাঁড়কাকের স্মৃতি আর নিশাদের পাগলামি

রাত্রি দাঁড়কাকের দিকে বিষণ্ণ চোখে তাকায়, ছোটবেলার স্মৃতি ভাসে। রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে নিশাদ তাকে উদ্ধার করে, কাকের মলে ভরা চুল নিয়ে পাগলামি শুরু হয়। মার্কেটে শপিংয়ের মাঝে নিভ্রানের ফোন, নিশাদ কথা বলে। বাড়িতে ফিরে নিভ্রান রাত্রির কেনা জিনিস দেখে মুচকি হাসে। বারান্দায় ভেজা রোদে রাত্রি, নিভ্রানের হঠাৎ স্পর্শে চমকে ওঠে।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩৬ | রাত্রির আগমন আর নিভ্রানের পরিবার

রাত্রি নিভ্রানের বাসায় পৌঁছায়, গাঢ় গোলাপি বাগানবিলাসে মুগ্ধ হয়। নিভ্রানের মা নাহিদা তাকে দেখে অবাক, তারপর কেঁদে ফেলেন। নওশাদ সাহেব আনন্দে রাত্রিকে সালাম দেন। নিশাদ প্রথমে বিশ্বাস করতে না পেরে নিভ্রানকে ছুঁয়ে দেখে। রাত্রি নিভ্রানের ঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখে অবাক হয়, নিশাদ বলে—বাবা নিষেধ করেছেন ঘরে ধুলো জমতে।