লেখক মালিহা খান

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩৭ | কদম ফুলের রাত আর নিভ্রানের উন্মাদনা

বৃষ্টিভেজা রাতে রাস্তার পাশের কদম ফুল তুলতে নামে নিভ্রান। গাড়িতে রাত্রির সাথে আবেগের উত্তাল মুহূর্ত, চুমুতে ভরা আঁচল, কামড়ে কাঁদে রাত্রি। বাড়িতে ফিরে হৃদস্পন্দন গুনে আতঙ্কিত হয় সে, আর নিভ্রান বলে—"এটা তোমার জন্যই বেড়েছে"। রাত শেষ হয় আবেগের চূড়ায়।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩৮ | নিভ্রানের স্পেশাল জামা আর রাত্রির কান্না

ভোরের নীলাভ আভায় জাগে রাত্রি, নিভ্রানের ঘুমন্ত মুখে চোখ আটকে থাকে। সারাদিন অকাজে সময় কাটে, আলমারির উঁচু তাকে লুকানো জামা-কাপড় খুঁজে পায়। নিভ্রান ফিরে এসে মৃদু হেসে বলে—"ওগুলো খুব স্পেশাল"। প্রথম দেখা, প্রথম কান্না, প্রথম বৃষ্টিতে ভেজা—প্রতিটি জামা আর ক্লিপে লুকিয়ে আছে তাদের প্রেমের গল্প। রাত্রি কাঁদে, নিভ্রান বলে—"তুমি আমার মেঘরাণী"।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৩৯ | রাত্রির অজ্ঞান আর নিভ্রানের প্রতীক্ষা

রাত্রি রান্নাঘরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। নিশাদ আতঙ্কিত হয়ে নিভ্রানকে ফোন করে। মিটিংয়ে থাকা নিভ্রান ছুটে আসে। ডাক্তার আসেন এবং সন্দেহ করেন রাত্রি গর্ভবতী। নিভ্রান চুপচাপ তার হাত ধরে থাকে, প্রতীক্ষায় আবেগের স্রোত।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৪০ | রাত্রির জ্ঞান আর নিভ্রানের প্রেগনেন্সি রিপোর্ট

রাত্রি দেড় ঘণ্টার বেশি সময় জ্ঞানহীন থাকার পর চোখ মেলে। নিভ্রান আনন্দে ভেঙে পড়ে। ডাক্তারের প্রেগনেন্সি টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। নিভ্রান নদীর পাড়ে নৌকা ভাসিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে, আর রাত্রি বুঝে ওঠে—তার বাচ্চা নিভ্রানের জন্য কত বড় আনন্দের কারণ।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৪১ | নিভ্রানের বাবার ফোন আর রাত্রির গর্ভাবস্থা

নিভ্রানের বাবা নওশাদ সাহেব রাত্রির প্রেগনেন্সি নিয়ে ফোন করেন। নিভ্রান লজ্জায় স্বীকার করে—রিপোর্ট পজিটিভ। মিষ্টি বিতরণে পুরো বিল্ডিং মাতোয়ারা। রাত্রির গর্ভাবস্থায় ক্লান্তি, বমি, মাথাব্যথা—নাহিদা তেল মাখায়, আর রাত্রি কাঁদে, "আসছেনা কেনো?"

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৪২ | রাত্রির কোমড় ব্যথা আর নিভ্রানের উদ্বেগ

নিভ্রান ক্লান্ত অবস্থায় ফিরে রাত্রির ঘুমন্ত মুখ দেখে মুগ্ধ হয়। রাত্রি কোমড় ব্যথায় জেগে উঠলে নিভ্রান আতঙ্কিত হয়ে তাকে সাহস দেয়। রাতে রাত্রির ব্যথা কমলেও নিভ্রান ঘুমোতে পারে না। পরদিন নিশাদের মজার মন্তব্যে রাত্রি বিভ্রান্ত হয়, আর হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় নিভ্রানকে ফোন করার জন্য অনুরোধ করে।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৪৩ | আল্ট্রার রিপোর্ট আর রাত্রির ভয়

নিভ্রান আল্ট্রার রিপোর্ট নিয়ে ফিরছে, রাত্রির জন্য আদরে ভরা চুমু খায় রিপোর্টে। হঠাৎ নিশাদের ফোন—রাত্রি খুব খারাপ লাগছে। নিভ্রান ছুটে আসে। ডাক্তার নিকিতা বলেন, ব্যথা স্বাভাবিক, বাচ্চা ভালো আছে। রাত্রি নিভ্রানকে ছাড়া ভয় পায়, সে কাঁদে। নিভ্রান আশ্বাস দেয়—সব ঠিক হবে।

এ শহরে বৃষ্টি নামুক | পর্ব ৪৪ | রাত্রির আশ্বাস আর নিভ্রানের প্রতিজ্ঞা

রাত্রি ভোরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেঘের দিকে চেয়ে থাকে, নিভ্রান ঘুম থেকে উঠে তাকে ঘরে ফিরতে বলে। গালে কাটা দেখে রাত্রি উদ্বিগ্ন হয়। নওশাদ সাহেব নাতনীর জন্য পুতুল কিনে আনেন। রাত্রি আয়নায় নিজেকে কুৎসিত ভাবতে শুরু করে, নিভ্রান তাকে জোর দিয়ে বলে—"তুমি থাকলেই হবে"। বৃষ্টিতে ভিজে নিভ্রান রাত্রিকে বিয়ের শাড়ি পরায় এবং প্রেমের প্রতিজ্ঞা করে। গল্প শেষ হয় আবেগঘন মুহূর্তে।