#শ্রাবন সন্ধ্যা
#আমিনা আফরোজ
#পর্ব:-৩৮
অভিমানের খেলার ছলে কেটে গেছে চারদিন। সেই দিন শ্রাবনের ব্যবহারে একবুক অভিমান নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল সন্ধ্যা। সেই থেকে এখন অব্দি অভিমান করেই আছে ও। দিনকে দিন দু-পক্ষের অভিমানের পাল্লাটা যেন আরো বেড়েই চলেছে। শ্রাবনের কথামতো সেদিনের পর থেকে আবারও কলেজ যাওয়া শুরু করেছে সন্ধ্যা। তবে শ্রাবণের সাথে এ নিয়ে কোন কথা বলে নি ও। অভিমানে শ্রাবনের থেকে চুপিসারে দূরে সরে গিয়েছে । এমনকি সেদিনের পর থেকে শাড়ি পড়াটাও বাদ দিয়েছে সন্ধ্যা যে শাড়ি কিনা ওর পছন্দের ছিল। আর শাড়ি পরবেই বা কার জন্য? যে মানুষটার জন্য শাড়ি পরতে পছন্দ করতো সন্ধ্যা সেই তো ওর দিকে তাকায় অব্দি না। মানুষটা একবারের জন্যও আসে নি ওর রাগ ভাঙ্গাতে । সন্ধ্যাও আগ বাড়িয়ে কথা বলে নি শ্রাবণের সাথে। দেখবে কতদিন শ্রাবণ ওর সাথে কথা না বলে থাকতে পারে ? আজ বাবা-মার কথা খুব মনে পড়ছে সন্ধ্যার মনে হচ্ছে মায়ের আঁচলের তলায় মুখ লুকালে হয়তো কিছুটা হলেও শান্তি পেত ও।
এদিকে গত চারদিন পর আজ গ্রাম থেকে বাসায় ফিরে এসেছে নেহা। গ্রামীণ পরিবেশে থাকতে খুব একটা খারাপ লাগে নি ওর। তাছাড়া যে কাজের জন্য গেয়েছিল তাতে সফল হয়েই ফিরেছে ও। সন্ধ্যার এমন অনেক অজানা কথা জেনে এসেছে যে এখন শ্রাবণের জীবন থেকে সন্ধ্যাকে খুব সহজে দূর সরিয়ে দিতে পারবে ও । বাসায় ফিরে প্রথমে নেহা চলে গেল ওর বাবার ঘরে । সকালের এই সময়টা নেহার বাবা ইমতিয়াজ খান স্টাডি রুমে বসে খবরের কাগজ পড়েন। নিয়মমাফিক আজকেও খবরের কাগজ নিয়ে বসেছেন তিনি । এরই মাঝে নেহার আগমন ঘটে সেখান । আজ নেহাকে বাসায় ফিরতে দেখে চমকে গেলেন তিনি। নেহাও বাবার দিকে তাকিয়ে দুষ্টমির হাসি দিয়ে বলল,
–“সারপ্রাইজটা কেমন দিলাম বাবা?”
–” তুমি যে আজ আসবে তা আমাকে আগে বলো নি কেন?”
বাবার প্রশ্ন শুনে নেহা মুচকি হেসে বলল,
–” হঠাৎ এসে তোমাকে চমকে দেওয়ার সুযোগটা হারাতে চাই নি তাই।”
–“চারদিনের মাঝেই তোমার কাজ শেষ হয়ে গেল?”
–” হুম বাবা । আমি সন্ধ্যার বিষয়ে এমন অনেক কথা জানতে পেয়েছি যা শ্রাবনকে আমার করতে অনেক সাহায্য করবে।”
–“কি এমন কথা জানতে পেরেছো তুমি?”
–“নেহাল নামের একটি ছেলের সাথে সন্ধ্যার বিয়ে ঠিক হয়েছিল কিন্তু সন্ধ্যা বিয়ের দিনই বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেছিল। সন্ধ্যাকে পালিয়ে আসতে আবশ্য ওর বাবাই সাহায্য করেছিল।আসলে এ বিয়েতে যেমন সন্ধ্যার কোন মত ছিল না তেমনি সন্ধ্যার পরিবারও এ বিয়েতে রাজি ছিল না।বলতে গেলে এক প্রকার জোর করেই বিয়েটা হচ্ছিল।”
নেহাকে থামিয়ে দিয়ে নেহার বাবা বলে উঠলেন,
–“বিয়েতে সন্ধ্যার পরিবারের রাজি না থাকার পেছনে কারণটা কি ছিল?”
–“যতদূর শুনেছি ছেলেটি এবং ছেলেটির পরিবারের লোকজন খুব একটা ভালো নয় অনেকটা লম্পট ধরনের। আর ছেলেটির বাবা অর্থাৎ সামাদ মিয়া দিনে দুপুরে মানুষ খুন করে বলে শুনেছি।”
–“তাহলে তো লোকটা সাংঘাতিক।”
–“সে বলতে পারো। সেদিন বাড়ি থেকে সন্ধ্যা পালিয়ে আসার পর ছেলেটিও সন্ধার সন্ধানে এই ঢাকাতেই চলে আসে। এখন আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে ছেলেটির সাথে যোগাযোগ করা। একবার যদি ছেলেটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি তবে তাকে সন্ধ্যায় ঠিকানা দিলেই আমাদের আর কিছুই করতে হবে না বাবা । তারপর যা করার নেহাল নামের ছেলেকেই করবে। “
ইমতিয়াজ খান ওনার মেয়ের কথাগুলো বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনলেন তারপর বললেন,
–” কিন্তু তুমি সেই ছেলেটি কে কোথায় খুঁজে পাবে? ঢাকার মতো ব্যস্ত নগরীতে ঠিকানাবিহীন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া বেশ দুঃসাধ্য।”
–“ঠিকানাবিহীন হতে যাবে কেন বাবা ? তোমার মেয়েকে কি তুমি এত বোকা মনে করো নাকি যে ছেলেটির বিষয়ে কোন খোঁজ খবর না নিয়েই চলে আসবো আমি ?”
–“কিন্তু তুমি ছেলেটার বিষয়ে কিছু এত কিছু জানলে কি করে ?”
–“উত্তরটা খুব সহজ বাবা । তোমাকে তো আমি বলেছি, রূপগঞ্জে আমি সেখানকার চেয়ারম্যানের বাড়িতে ছিলাম গত চারদিন । চেয়ারম্যান সামাদ মিয়ার ছেলের নামই হচ্ছে অভ্র আহমেদ নেহাল অর্থাৎ আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত ছেলেটি।
ইমটিয়াজ খান মুচকি হেসে বলে উঠলেন,
–” বাহ্ তাহলে তো ভালোই হয়েছে।
–” হুম বাবা। এখন শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা।”
–” তাহলে মামনি তুমি এখন বিশ্রাম নাও। অনেক দূর থেকে জার্নি করে এসেছো। এখন তোমার বিশ্রামের প্রয়োজন। আমাকেও এখন অফিসে যেতে হবে। বাদবাকি পরিকল্পনা হয় রাতে করবো আমরা।”
–” ঠিক আছে বাবা ।”
বাবার থেকে বিদায় নিয়ে নিয়ে ওর ঘরের দিকে চলে গেল নেহা। আপাতত ফ্রেস হয়ে একটু ঘুমাতে চায় ও।
এদিকে গত চারদিন সন্ধ্যার সাথে কথা না বলতে পেরে ছটফট করছে শ্রাবণ । আকারে-ইংগিতে অনেকবার বুঝিয়েছে সন্ধ্যাকে কিন্তু কেউ যদি না বোঝে তাহলে কিই করার আছে আর? না আজ যে করেই হোক সন্ধ্যার রাগ ভাঙ্গাতে হবে ওকে। এজন্য আজ সকাল থেকে ও সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা করে আছে কিন্তু সন্ধ্যার কোনো খোঁজই নেই । পুরো বাড়ি তন্নতন্ন করেও সন্ধ্যাকে কোথাও খুঁজে পেল না শ্রাবণ। হঠাৎ ছাদের কথা মনে হতেই চটজলদি ছাদের দিকে চলে গেল ও। ছাদে গিয়ে দেখল ওর ছোট্ট অভিমানী বউটি ছাদের রেলিং ধরে আকাশের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মুচকি হেসে সেদিকে এগিয়ে গেল ও। তারপর পিছন থেকে জড়িয়ে নিল ওর অভিমানী মায়াবতীকে। সন্ধ্যা অবশ্য কয়েকবার নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু শ্রাবণের সাথে পেরে উঠে নি। তাই কিছু সময় পর নিজেও মুখ গুজলো শ্রাবনের বুকে। এভাবে নিরবেই না হয় দূর হোক অভিমানের কালো মেঘ। চুপিসারেই না হয় ভালোবাসার বাঁধনে আবারো বাঁধা পড়ুক দুজনে।
চলবে
(আসসালামুয়ালাইকুম। জানি আজকের পর্ব ছোট হয়েছে। সকাল থেকে হাঁচি হচ্ছে আমার। সেই সাথে শুরু হয়েছে মাথা ব্যাথা। একবার ভেবেছিলাম গল্প দিবো না আজ। পরক্ষনেই ভাবলাম আপনারা হয়ত গল্পের জন্য অপেক্ষা করে আছেন। তাই আর আপনাদের অপেক্ষা করাতে ইচ্ছে হলো না। এজন্য ছোট হলেও গল্পটা দিলাম আজ। আগামী পর্বে গল্পে অনেক জট খুলবে ইলশাআল্লাহ। আজকের পর্ব কেমন হয়েছে জানাবেন আর ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর যারা নীরব পাঠক আছেন তারা দয়া করে সাড়া দিবেন। আপনাদের সাড়া পেলে লেখার আগ্রহ বেড়ে যায়। ভালো থাকবেন সবাই। আমার জন্য দোয়া করবেন।আগামীকাল সুস্থ থাকলে ইনশাআল্লাহ গল্প দিব। হ্যাপি রিডিং )