গজপ্রিয়া | পর্ব ১২ | মায়ের আদর আর সম্রাটের ফিসফিস

মোস্তাফিনার বিয়েতে রানির দুই মায়ের আদরে ভরপুর মুহূর্ত। আশিকের মনের কথা ধরা পড়ে লাবিবের কাছে। গেটে বরযাত্রীদের মজার চাপে অস্বস্তিতে পড়ে রানি, কিন্তু সম্রাট তাকে রক্ষা করে। শেষে স্টেজের পাশে সম্রাট ফিসফিস করে বলে—"আমাদের বিয়ের দিন কবুল বলতে দেরি করবি না"।

প্রায় দেড় মাসের গ‍্যাপ পড়ে গিয়েছিল লেখালেখিতে । আমার পাঠক বন্ধুরা হয়তো স্টোরি লাইন ভুলে গেছেন । তাই একটু হিন্ট দিয়ে দিলাম …
————————
#গজপ্রিয়া~12
গল্পের মূল চরিত্র রানি যে কিনা বিশ্বভারতীতে বাংলায় মাস্টার্স করছে । মামার জরুরী তলবে বাড়ি ফিরে আসে কারণ ওর মামাতো বোন মোস্তাফিনার বিয়ে খুব শীঘ্রই । আলিপুরে এসেই প্রথম সংঘর্ষ হয় সম্রাটের সঙ্গে যে কিনা ওর সহপাঠী ছিল একসময় । কিন্তু দুজনের সম্পর্ক সাপে-নেউলে । কিন্তু তবুও কোথাও একটা যোগ সূত্র নিশ্চয়ই আছে যে কারণে রানি বাড়ি ফিরলেই প্রতিবার সম্রাট ছুটে আসে । পরবর্তী কাহিনী নিচে?
—————————
-” রানি , এদিকে আয় তো মা ..”
-” কি হল মামানি ? ”
মনিরা রানিকে আপাতমস্তক দেখে বলল,
-“বাহ, আমার সোনাটাকে তো খুব মিষ্টি লাগছে । ”
রানি লাজুক হাসল । পাশ থেকে সাহানাজ বলল,
-” ঠিক বলেছ ভাবি । আমাদের রানিকে রানির মতোই লাগছে । এবার ওর জন্যেও একটা রাজা খোঁজা শুরু করে দাও । ”
-” হুম, সে তো খুঁজবই । আমার রানির জন্য একটা মিষ্টি দেখে রাজা খুঁজে আনব ।… তবে সেই সিদ্ধান্ত তো মোশারফ ভাইজান নেবেন । ওনার আমানত আমরা স্বযত্নে রাখলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তো তারই …”
-” এসব কি বলছেন ভাবি ? আমি রানিকে জন্ম দিলেও ওর ওপর সবথেকে বেশি অধিকার আপনার । যে ভালোবাসা ,যত্ন ওর আমার থেকে পাওয়ার কথা ছিল তা আমি ওকে দিতে পারিনি । সেটা আপনি আর ভাইয়া দিয়েছেন । আমাদের আমানত নিজের আমানত মনে করে আগলে রেখেছেন । তাই চাইলেও আমি বা আপনার ভাইজান সেটা অস্বীকার করতে পারব না । যেদিন ওকে আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম সেই দিনই ওর সব অধিকার আমি আপনাকে দিয়ে দিয়েছি ভাবি । ওর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আপনাদের আছে । তাই এইসব ভেবে মনখারাপ করবেন না । ” বলল জাহানারা ।

মনিরা ছলছল চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল জাহানারার দিকে । তারপর জড়িয়ে ধরল জাহানারাকে। রানি হাসি মুখে দেখল নিজের দুই মা কে । নিজেকে সৌভাগ্যবতি মনে হল রানির । এই পৃথিবীতে কতশত শিশু আছে যারা বাবা-মা,আপনজন ছাড়াই বেড়ে ওঠে । কেউ থাকেনা প্রচণ্ড ক্ষিদেয় সময় তাদের মুখে একমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য ‌ , কান্নার সময় চোখ মুছিয়ে দেওয়ার জন্য কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যতে একটা ভরসার হাত হওয়ার জন্য । আর ও , যে কিনা ভাগ্য করে দুই– দুই জন মা পেয়েছে যারা কিনা ওকে এত ভালোবাসে । সুখানুভূতিতে রানির চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠল । ডান হাতের তর্জনী দিয়ে অশ্রুবিন্দুটাকে আলতো করে তুলে ঠোঁটের কোণে হাসি ফোটাল । বলল,
-” উফফ আল্লাহ ! কি যে শুরু করলে না তোমরা ! আমি এত যত্ন করে সাজলাম । আর তোমাদের ইমোশনাল মোমেন্টের জন্য আমার সাজের বারোটা বাজবে মনে হয় । ”
ওর কথায় হাসল তিনজনেই । মনিরা বলল,
-“শোন ,যে জন্য তোকে ডাকছিলাম .. আর একটু পরেই তো আত্মীয়রা আসা শুরু করবে । তখন মুসু খাওয়ার সময় পাবে না । তুই এখন একটু ওকে খাইয়ে আন তো । ”
-” এই দেখো , কথাটা একদম মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল আমার । আচ্ছা , তুমি চিন্তা কোরো না , আমি এক্ষুনি যাচ্ছি ….”

“তোর আসতে এত দেরি হলো কেন ?” বলেই খাবার প্লেট থেকে চপ ভেঙে মুখে দিল লাবিব ।
-” আর বলিস না । আমার মা সব জায়গাতেই আমার নামে ফরমান জারি করেছে । তার ছেলের জন্য বৌ খুজতে হবে । এবার তো নিজেই এসে হাজির হয়েছেন চাচাদের বাড়ি । কয়েকদিন থেকে ওখানেই আছেন । জোর কদমে পাত্রী দেখছিল । আর তার জন্যই আজ আমাকে ডেকেছে । “…খেতে খেতেই জবাব দিল আশিক ।
-” চাচি একদম ঠিক করেছে । একত্রিশ তো হয়েই গেল । আর কত দিন আইবুড়ো থাকতে চাস । এবার বিয়ে সাদি করে সংসারি হ । এই আমাকেই দেখ । একসাথেই পড়েছি । চাকরিও পেলাম দুজনে একি বছর । আমার বিয়ের চার বছর হয়ে গেল । মেয়েও বড় হয়ে গেছে । আর তুই এখনো বুড়ি মা টাকে জ্বালাচ্ছিস ! ”
লাবিবের কথায় হাসল আশিক । লাবিব আবার বলল,
-” আচ্ছা , তুই তো একটা মেয়েকে পছন্দ করতি ভার্সিটিতে থাকতে । সেই মেয়েটার কি হল ? বিয়ে হয়ে গেছে নাকি মেয়েটার ? ”
লাবিবের কথায় আশিককের দৃষ্টি গিয়ে ঠেকল বিপরীত সারির শেষের টেবিলটায় । মোস্তাফিনার পাশে বসে রানি কিছু একটি নিয়ে তর্কাতর্কি করছে সম্রাটের সাথে । মুসুর প্লেট থেকে চপ তুলে রানি একটা কামড় দিয়ে রাখতেই সম্রাট ছো মেরে তুলে নিল বাকি এটো চপটা । আশিক মুখ ঘুড়িয়ে নিল সেখান থেকে ।
-“কিরে ,বললি না তো ? কি করে মেয়েটা এখন ?”
-“না, বিয়ে হয়নি । পড়ছে এখনও । ”
-” বেশ । তাহলে তো হয়েই গেল । চাচিকে ওই মেয়ের কথাই বলে দে । পাত্রি দেখার ঝামেলা অন্তত কমবে ।”
-” তার আগে তো আমার জানা উচিত ও আমার সম্পর্কে কি ভাবে ?”
-“অ্যা..কি বলিস এসব ? মেয়েটা জানেই না এখনো যে তুই ওকে পছন্দ করিস ।… মানে বলিস নি এখনো মেয়েটাকে । ” লাবিব অবাক হয়ে তাকায় আশিকের দিকে । আশিক একটু মিইয়ে যায় লাবিবের বিস্মিত দৃষ্টির সামনে । লাবিব আবার বলল,
-“কি রে তুই ! কত বছর হয়ে গেল ! প্রায় সাত-আট বছরের কথা । সেই তখন থেকে তুই একটা মেয়েকে পছন্দ করিস । অথচ মেয়েটাকে বলিস নি তুই নিজের মনের কথা !”
-” আমি কি করতাম তখন ? ও ছোট ছিল অনেক …”
-“ভাই, এখানে ডাল দাও তো” ক‍্যাটেরার ছেলেটাকে উদ্দেশ্য করে বলল লাবিব । তারপর আবার আশিককে বলল,
-” তখন ছোট ছিল । এখন তো বড়ো হয়ে গেছে । এখন তো বলতে পারিস । এখন ও যদি তুই ‘ছোট-ছোট’করিস, তাহলে দেখবি সেই ছোট মেয়েটাই অন্য কাউকে পছন্দ করে বসে আছে অথবা বখড়ি থেকে কাউকে ঠিক করে রেখেছে। অতশত ছাড়, প্রায় আট বছর হয়ে গেল । এখন তো মেয়েটা নিশ্চয়ই বড়ো হয়ে গেছে । চাচিকে দিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়ে দে ওদের বাড়ি । তোর মতো ওয়েল স্টাবলিসড ছেলেকে কোনো মেয়েপক্ষই না করবে না । …” বলেই লাবিব তাকাল আশিকের দিকে । আশিককের চোখ দুটো গুপ্তধন পাওয়ার মতো চকচক করে উঠল। বলল,
-“বলছিস তো ? ….”
-“হ‍্যা …আর অপেক্ষা করছিস কিসের জন্য ? নাকি এইভাবেই সারাজীবন ব‍্যাচেলর তকমা নিয়ে ঘুরতে চাস ?”
মুচকি হাসল আশিক ।
-“আচ্ছা, এবার ফিরে গিয়ে মাকে বলব তাহলে ” রানির দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল আশিক । লাবিবের দৃষ্টি এড়াল না ওর চোখ মুখের আকস্মিক দ‍্যুতিটা । দৃষ্টি অনুসরণ করে থমকে গেল লাবিব । নিজের সন্দেহের তীর টাকে নিধন করতে আবার তাকাল আশিকের দিকে । এখনো আশিকের মুখে খুশির ঝিলিক দেখে বিস্ময়ের শেষ সীমায় পৌঁছে গেল সে। না ,মনের ভুল নয় । আশিক রানিকেই দেখছে । কিছু মুহূর্তের জন্য লাবিব ভুলে গেল হাতে মাখানো লোকমাটা মুখে তুলতে । সব কিছু অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে ওর। তার বেস্টফ্রেন্ড এতকাল তার বোনের কথায় বলে এসেছে । আর ও এমন গাধা! বুঝতেই পারেনি । অবশ্য বোঝার মতো করে কিছু তো কখনই বলেনি আশিক । প্রত‍্যেকবার কৌশলে এড়িয়ে গেছে মেয়ের পরিচয় । তার কারণটা আজ বুঝতে পারল ও ।

বরযাত্রী এসে পৌছেছে কুড়ি মিনিট হল । কাজিনরা সবাই গেট ধরেছে । হবু জামাইকে মিষ্টি খাওয়ানোর পরিবর্তে মোটা টাকা বকশিশ দিতে হবে শালিকাদের । না হলে কেউ গেট ছাড়বে না । প্রায় সাত-আট জন কিশোরী দাড়িয়ে আছে গেট আটকে । রানিও দাড়িয়ে আছে একপাশে । ওর ইচ্ছে ছিল না এখানে আসার । মামা বারণ করেছিল গেট আটকাতে । কারণ গেট আটকানোর কারণে অনেক সময় বিয়েবাড়িতে বরযাত্রীদের সাথে ঝামেলা বেধে যায় । কিন্তু বিলকিস , মৌনিরা বারণ অমান্য করে দাড়িয়ে আছে । ওদের দাবি পূরণ হলেও তবেই ওরা বরযাত্রী ঢুকতে দেবে না হলে সেখানেই বসে থাকতে হবে সবাইকে । রানির বুকটা ভয়ে কাপছে । একটু পরপর ইতস্তত ভঙ্গিতে আশপাশ তাকাচ্ছে । যখন তখন মামা এসে পড়তে পারে । এসেই হয়তো রাম ধমকটা সবার আগে ওকেই দেবে ।
-“এই মেজপু এদিকে আয় ? ” বিলকিস একটু গলা উচিয়ে ডাকলে রানি ভীড় ঠেলে এগিয়ে এল সামনে । প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকাল বিলকিসের দিকে । বিলকিস একটা টিস্যুর বাক্স হাতে দিয়ে বলল ,
-” আমার মিষ্টি খাওয়ানো হয়ে গেলে ওদের হাতে একটা করে টিস্যু পেপার ধরিয়ে দিস ”
-” আমি কেন ? তোরাই কর না ..”
-“প্লিজ আপু ..”
রানি বিরক্ত হয়ে তাকাল তবে মানা করল না । মিষ্টি খাওয়ানো হয়ে গেলে রানি একটা টিস্যু পেপার এগিয়ে দিল বরের দিকে । তখনি বরযাত্রীদের মধ্যে একজন বলে উঠল টিস্যুর দেওয়ার বদলে নিজেই কেন মুখ মুছিয়ে দিচ্ছে না । তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভীড়ের মধ্যে আরো একজন বলে উঠল ,
-” উম হু । টিস্যু নয় । তার থেকেও ভালো হয় যদি নিজের আঁচল দিয়ে মুখ মুছিয়ে দেন তো । শালি মানেই তো আধা ঘরওয়ালি । তাই দায়িত্বটা নাহয় এখান থেকেই পালন করুন ম‍্যাডাম। ”
কথাগুলো শুনে কান গরম হয়ে গেল রানির । অস্বস্তিতে কুকড়ে গেল । বরাবরই এরকম পরিস্থিতি গুলোকে এড়িয়ে চলে রানি । কে বলছে দেখার জন্য মুখ তুলে তাকিয়ে দেখল একটা কোট-টাই পরিহিত সুন্দর দেখতে ছেলে হাসি মুখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । চোখে মুখে দুষ্টুমি খেলা করছে । কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে তখনই পাশ থেকে ভেসে এলো এক রুক্ষ্ম স্বর । রানি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল সম্রাট দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলছে ,
-” আমার তো আপনাকে বিকলাঙ্গ বলে মনে হচ্ছে না । হাত-পা তো ঠিক জায়গায় আছে । তাহলে এমন অবাঞ্ছিত আবদার কেন করছেন ভাই ? ”
-” আরে… আরে , আপনি রাগ করছেন কেন ? ভাইয়ার শালি মানে তো আমাদের বেয়াইন হয় ‌তাই না । একটু আধটু মজা তো করাই যায় । কি বলেন ? ”
হাসার চেষ্টা করল সম্রাট । বলল,
-” অবশ্যই । কিন্তু সব কিছুর একটা লিমিট থাকে । তাই না । সামনের ব‍্যক্তিটি আপনার করা ছেলেমানুষী মজার জন্য কতটা অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়তে পারে সেটাও কিন্তু খেয়াল রাখা উচিত । ”
শান্ত ভঙ্গিতে সম্রাট কথাটা বললেও তা তীরের ফলার মতো গিয়ে আঘাত হানল বরপক্ষের কিছু ছেলেমেয়েদের মধ্যে । মুহূর্তে একটা চাপা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল । সম্রাট এবং সামনের কোট পরা ছেলেটা জ্বলন্ত দৃষ্টিতে একে অপরের বিদ্ধ করতে তৎপর হয়ে উঠল যেন । রানি প্রমাদ গুনল মনে মনে । এই বুঝি ঝামেলা বেধে গেল । সম্রাটের কুনুই ধরে টানল দুবার । কিন্তু একচুলও সরাতে পারল না । মনে মনে খুব করে চাইল লাবিব ভাইয়া অথবা তামিম ভাইয়া কেউ একজন আসুক । অবশেষে মহিলাদের ভীড় ঠেলে এগিয়ে এল লাবিব ,আশিক । তাদের পেছনে মামা আর আব্বুকে দেখে স্বস্থির নিশ্বাস ফেলল রানি । তাদের মধুর বাক‍্যবাণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে এল নিমেষেই ।

কাজী সাহেব বিয়ে পড়াচ্ছেন । দীর্ঘ সময় কান্নাকাটি করার পর কবুল বলেছে মুসু । এখন খেজুর বিতরণ করা হচ্ছে অতিথির মাঝে । সবার মাঝে একটা খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে । মুসু আর জাহিদকে স্টেজে একসঙ্গে বসানো হয়েছে । ফটোসেশন চলছে ওদের । ছোটো ছোটো বাচ্চারা ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছে ক‍্যামেরার সামনে । ফটোগ্রাফার ফটো তুলতে বারবার বাধা পাচ্ছেন । মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুব বিরক্ত হচ্ছেন তিনি । বিলকিস দায়িত্ব নিয়ে বাচ্চাদের সরিয়ে দিল সামনে থেকে । একটু দূরে কোণায় বসে এসবই লক্ষ্য করছিল রানি । হাটাহাটি করতে করতে ভীষণ ক্লান্ত লাগছে ওর । পা দুটোও ব‍্যাথায় টনটন করছে । হঠাৎ চুলে টান অনুভব করলে চকিতে ঘাড় ঘুরিয়ে থমকে গেল ও । মুখের খুব কাছেই সম্রাট হাসি হাসি মুখে ওকেই দেখছে । এক মনে মোস্তাফিনা আর জাহিদকে দেখছিল ও । সম্রাট কখন পাশের চেয়ারে এসে বসেছে বুঝতেই পারেনি । চুলের টানটা আবার পড়তেই ডান হাতে নিজের খোপাটা স্পর্শ করল । নরম কিছু হাতে লাগতেই প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকাল সম্রাটের দিকে । সম্রাটের হাসিটা প্রশস্ত হল । বলল,
-” খোপাটা এতক্ষণ ফাকা ফাকা লাগছিল ।…… এখন পরিপূর্ণ মনে হচ্ছে । …” একটু থেমে আবার বলল,
-” ভালো লাগছে তোকে ”
এই প্রথম রানি পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাল সম্রাটের দিকে । অনুসন্ধিৎসু হয়ে বোঝার চেষ্টা করল চোখের ভাষা । সম্রাট আবার কোনো বদমাইশি করছে না তো ? কিন্তু আজ , এই মুহূর্তে সম্রাটের চোখের দিকে তাকিয়ে সেরকম কিছু মনে হল না রানির । কেন যেন এবার বিশ্বাস করতে মন চাইল সম্রাটকে । মৃদু হাসল রানি । সলজ্জ কন্ঠে নরম সুরে বলল -“থ‍্যাঙ্ক ইউ ”

রানির লজ্জা মাখা মুখখানি নজর এড়াল না সম্রাটের । তৎক্ষণাৎ দুষ্টুমিরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল । রানি তখন আবার স্টেজের দিকে তাকিয়েছিল । সম্রাট ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল ,
-“শোন , আমাদের বিয়ের দিন কিন্তু তুই মুসু আপার মতো কবুল বলতে দেরি করবি না বুঝলি । নাহলে কিন্তু খবর করে ছাড়ব ”
কটকটিয়ে তাকিয়ে রানি বাঁ হাতের কুনুই দিয়ে সজোড়ে আঘাত করল সম্রাটের পেটে । সম্রাট পেটে হাত দিয়ে ‘আউউ ‘শব্দ করে ঊঠল ।

To be continue..
✍️Chhimina Begam
পরবর্তী পর্ব কালকে দেব ইন শা আল্লাহ…

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।