অনন্যময়ী
সানজিতা_তুল_জান্নাত
পর্ব_৩৭
জাহানারা বেগমের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে অনি। নিস্তব্ধ রাত;ঘড়ির কাটা ১২টার ঘরে ছুঁই ছুঁই করছে। চারপাশটায় কেমন মলিন নীরবতাপূর্ণ।
অনির আলগা করে বাঁধা চুলে মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে জাহানারা বেগম। এক ঝাক অলসতা যেন অনির উপরে এসে ভর করেছে। তার খুব ইচ্ছে হচ্ছে অনন্তকাল এভাবেই কাটিয়ে পার করতে। কি অদ্ভুত ব্যাপার!
হসপিটালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে মিথিলা। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে এক বুক শঙ্কা নিয়ে ক্রমাগত দোয়া দরূদ পাঠ করতে ব্যস্ত অসহায় মাতা সাবরিনা বেগম। আর পাশেই বসে বৃথা সান্ত্বনা দিতে ব্যস্ত শায়লা বেগম।
তাদের মুখোমুখি বসা রিশাদ। তার চোখ দুটো সাবরিনা বেগমের উপর স্থির। এক অসহায় এক মাকে দেখছে সে। একমাত্র সন্তান ব্যতীত এই পৃথিবীতে তার আর কোন সহায় সম্বল নেই বললেই চলে। সেই মায়ের করুণ চাহনি দেখতে ব্যস্ত। অনুভব করার চেষ্টা করছে প্রতিটি মূহুর্তকে। খুব খারাপ হবে যদি আজ অসহায় মায়ের বুক খালি হয়ে যায়। সৃষ্টিকর্তা এত নিষ্ঠুর হতে পারে না।
অপারেশন থিয়েটারের দরজার উপরের দিকে লাগানো জ্বলন্ত লাল আলোটা নিভে যায়। সাবরিনা বেগমের মধ্যে ক্রমাগত তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। শরীরটা ক্রমাগত নেতিয়ে পড়ছে। নিজের শরীরের ভার বইতে যেন তার বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে।
ভারী হয়ে আসা পা দুটোকে জোর করে টেনে নিয়ে সামনের দিকে যায়। কাঁপতে থাকা হাতটা একপাশ থেকে এসে আঁকড়ে ধরে রিশাদ। জলভরা নয়নে রিশাদের দিকে তাকায় সাবরিনা বেগম। তার চাহনিতে রিশাদ স্পষ্ট দেখতে পায় সন্তান হারানোর শঙ্কা রিশাদের বুকটা কেঁপে ওঠে। ছোটবেলা থেকেই তার প্রিয় মানুষগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন সাবরিনা বেগম। তার এই করুণ চাহনি রিশাদকে ভেতর থেকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়।
নিজের মনের ভেতরে থাকা অনুভূতিগুলোকে চাপা রেখে রিশাদ সাবরিনা বেগমকে ভরসা জোগায়। এতে সাবরিনা বেগম আস্বস্ত হন কিনা তা রিশাদের কাছে স্পষ্ট হয় না।
ভেতর থেকে মাস্ক পরিহিত একজন মাঝ বয়সী ব্যক্তি পেশেন্টের পরিবারের খোঁজ করলে রিশাদ সাবরিনা বেগমকে নিয়ে এগিয়ে যায়।
–“পেশেন্ট এখন আউট অফ ডেঞ্জার। তবে প্রচন্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সে। শি নিডস মেন্টাল সাপোর্ট। প্লিজ টেক কেয়ার অফ হার। (ডাক্তার)
ডাক্তারের কথা শুনে যেন প্রাণ ফিরে পান সাবরিনা বেগম। আবেগ সামলাতে না পেরে তিনি সেখানেই কেঁদে ফেলেন।
রিশাদ সামলে নেয় সাবরিনা বেগমকে। প্রয়োজনীয় কথাবার্তা শেষ করে নেয় ডাক্তারের সাথে।
ঘন্টাখানেক পর মিথিলাকে কেবিনে শিফট করা হয়। এখনো তাকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তাই কাউকে তার কেবিনে এলাউ করা হচ্ছে না।
কেবিনের দরজার কাচের ভেতর দিয়ে অসহায় মা অশ্রুপাত করছেন তার শয্যাশায়ী সন্তান। কি অসহনীয় যন্ত্রণাময় মূহুর্ত!
মিথিলার বাম হাতের কব্জি থেকে অর্ধেক অংশ পর্যন্ত সাদা ব্যান্ডেজে আবৃত। ডান হাতে লাগানো স্যালানের সুঁচ।
গভীর ঘুমে মগ্ন সে। রুক্ষ চেহারায় বিষাদের ছাপ। কি নির্মম চাহনি তার। রিশাদের চোখ দুটো ঘোলা হয়ে আসে। কোনভাবেই সে হিসেব মেলাতে পারছে না। মিথিলার দ্বারা এমন একটা কাজ কিভাবে সম্ভব হতে পারে। এটা সত্যিই বাস্তব তো?নাকি ক্ষণিকের দুঃস্বপ্ন। ক্ষণিকের দুঃস্বপ্ন হলে ব্যাপারটা মন্দ হতো না। জীবনের তিক্তময় অভিজ্ঞতাগুলোর ভিড়ে আরো এক তিক্ত অনুভূতি যুক্ত হলো রিশাদের।
ভোরবেলার দিকে জ্ঞান ফেরে মিথিলার। পাশেই সাবরিনা বেগম। মিথিলার জ্ঞান ফিরতে দেখে তিনি দ্রুত গিয়ে ডাক্তারকে খবর দিতে যান। সেই মূহুর্তে কোন ডাক্তার ছিলেন না হসপিটালে। সাবরিনা বেগম এঘর ওঘরে ডাক্তারকে খুঁজতে থাকেন।
একজন ইন্টার্ন ডক্টর সবেমাত্র ডিউটি শেষ করে রেস্ট রুমের দিকে যাচ্ছিলেন। সাবরিনা বেগম কাউকে খুঁজে না পাওয়ার পর রেস্ট রুমের সামনে থেকে তাকেই রিকুয়েস্ট করে সাথে নিয়ে যায়।
মিথিলার এখনো পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তার মনে হচ্ছে এখনো সে যেন কোন ঘোরের মধ্যে পড়ে আছে। চোখ মেলে চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিজের অবস্থা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে।
আশেপাশে আসবাব ও যন্ত্রপাতি দেখে সে অনুধাবন করতে পারে হাসপাতালে আছে এখন। মাথাটা কেমন ভারী হয়ে আছে তার। হাতটা নড়াতেই ব্যথা অনুভব করে সে। ব্যথায় কিছুটা কুঁকড়ে যায় সে।
দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ডাক্তার ইভান। আবছা দেখতে পায় মিথিলা। ডক্টর ইভানের পাশে নিজের মা সাবরিনা বেগমকে সে চিনতে পারে। কিছু একটা বলতে চায় সে। তবে শরীর এতটা দূর্বল যে কথা বলার আগ্রহ অথবা শক্তি কোনটাই এই মূহুর্তে তার মাঝে নেই।
ইভান মিথিলার কাছে গিয়ে তার ডান হাতের কব্জিতে দুটো আঙুল রেখে পালস চেক করে। ইভানের নজর আটকে যায় মিথিলার চোখের উপর। অস্বাভাবিক সুন্দর চোখ দুটো নিমিষেই ইভানের নজর কাড়ে। ঘোরলাগা চোখের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে ইভান। মিথিলার সেদিকে কোন হুশ নেই।
ভোরবেলার দিকে চোখ লেগে যায় অনির। অন্ধকার ঘরটায় কোথাও আলোর ছিটেফোঁটা নেই। একটু পরেই কোথা থেকে যেন এক চিলতে আলো এসে ঘরের কিছু অংশ আলোকিত করে দেয়। অনির সামনে স্পষ্ট হয় এক রক্তাক্ত হাত। গলগল করে রক্ত পড়ছে। ফ্লোর ভেসে গেছে রক্তে। যত সামনের দিকে যায় ততই দূরে সরে যাচ্ছে মিথিলার অবয়ব। রক্তপাত যেন ততই বেড়ে যাচ্ছে।
কলিংবেলের শব্দ শুনে ঘুম থেকে লাফ দিয়ে ওঠে অনি। পুরো শরীর ঘেমে একাকার অবস্থা। পুনরায় কলিং বেলের শব্দ অনির কানে পৌঁছায়। কেউ হয়তো দরজা খুলে দিচ্ছে না। বিধায় অনি রুম থেকে বেরিয়ে নিচে নামে।
দরজা খুলে দিলে দরজার ওপাশে রিশাদকে দাঁড়িয়ে থাকে। রিশাদকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে। সারাদিন মিথিলাকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে হয়তো বেশ ধকল গেছে।
–“মিথিলা কেমন আছে?”(অনি)
–“এখন ভালো আছে। বিপদ কেটে গেছে।”(রিশাদ)
–“ওহ আচ্ছা। জ্ঞান ফিরেছে?”(অনি)
–“একটু আগেই আম্মু কল করেছিল বললো তো জ্ঞান ফিরেছে।”(রিশাদ)
রিশাদ রুমে এস্ব ফ্রেশ হয়ে একটু জিরিয়ে নেয়। অনির সাথে টুকটাক কথা বলে। রিশাদকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে।
আযান দিলে মসজিদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়। অনিও অযু করে এসে নামাজ পড়ে নেয়।
নামাজ শেষ করে রান্নাঘরের দিকে যায় অনি। রান্নাঘরে গিয়ে সকলের জন্য ব্রেকফাস্ট বানাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। তাকে সাহায্য করে আমেনার মা। রিশাদ মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে এসে অনিকে কোথাও খুঁজে পায় না। অবশেষে রান্নাঘরে এসে অনিকে খুঁজে পায়।
অনিকে রান্না করতে দেখে রিশাদ কিছুটা অবাক হয়। কিছুক্ষণ দূরে দাঁড়িয়ে থেকে রিশাদ নিজের রুমে চলে যায়।
দুদিন কেটে গেছে। এই দুদিনে মিথিলা অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেছে। আজ তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার পালা। হসপিটালে ডক্টর ইভান মিথিলাকে বেশ কয়েকবার এসে দেখে গেছে। মিথিলার সাথে কথা বলে পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করলে মিথিলা খুব বেশি রেস্পন্স করে না বলে ইভান কিছুটা হতাশ হয় তবে হাল ছাড়ে না। তবে এর মধ্যেই সে সাবরিনা বেগম ও রিশাদের সাথে বেশ ভালোই সখ্যতা গড়ে তুলেছে। বিধায় সে মনে করছে মিথিলার সাথে ভালো পরিচিতি গড়ে তুলতে তাকে খুব বেশি কসরত করতে হবে না।
সকাল থেকেই অনি মিথিলার বিষয়টা নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে আছে। অনির এধরনের একটা কাজ করার পরিবারের অন্য সবার কাছে স্পষ্ট না হলেও দুজন মানুষের কাছে তা একেবারেই স্পষ্ট। প্রথমজন হলেন সাবরিনা বেগম আর দ্বিতীয়ত হলো অনন্যময়ী।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মিথিলাকে নিয়ে বাড়ি ফেরে রিশাদ আর সাবরিনা বেগম। শায়লা বেগম আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন যাতে মিথিলার কোন সমস্যা না হয়। মিথিলার এমন একটা পদক্ষেপ নেয়ার পেছনের কারণটা কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করেনি। ডাক্তার আগে থেকেই নিষেধ করে দিয়েছিলেন অতীতের কোন কথা যেন তার সামনে না বলা হয়। মিথিলার মানসিক অবস্থানুযায়ী তাকে এখন সব সময় হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করতে হবে।
সাবরিনা বেগম আর রিশাদ মিথিলাকে ধরে নিয়ে এসে সোফায় বসিয়ে দেয়। মিথিলার শরীর এখনো কিছুটা দুর্বল। হাতের ক্ষতটা এখনো সারেনি। শায়লা বেগম মিথিলাকে জোর করে এক গ্লাস শরবত খাইয়ে দেন।
মিথিলা বাড়ি ফিরে আসায় সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এমন একটা কান্ড ঘটানোয় মিথিলা নিজেও কিছুটা লজ্জিত। অপরাধবোধ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে তার চেহারায়। তাই কেউ আর তাকে এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন মনে করেনি। তবে মিথিলার এমন কাজের পেছনের কারণটা সবার কাছে রহস্যই থেকে গেছে। রিশাদের এ বিষয়ে কৌতূহল বেড়েই চলেছে।একটু সময় নিয়ে সে এব্যাপারে মিথিলার সাথে আলোচনা করবে। তবে একটু সময় দিতে হবে মিথিলাকে।
কিছুক্ষণ পর মিথিলাকে রুমে নিয়ে শুইয়ে দেন। সাবরিনা বেগমকে ইশারায় পাশে বসতে বলে মিথিলা। তার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকে মিথিলা। সাবরিনা বেগম মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। মিথিলা চোখ বুজে থাকে। আপনা আপনি তার চোখ ভিজে আসে। নিজের কাজের জন্য সে অনুতপ্ত।
আত্মহত্যার মতো একটা জঘন্য কাজের চেষ্টা সে কিভাবে করতে পারল। সৃষ্টিকর্তার রহমতে সে নিজের ভুলগুলো শোধরানোর সুযোগ পেয়েছে। আর কোন ভুল নয়। নতুন করে তাকে সব কিছু শুরু করতে হবে।
রিশাদ একেবারে গোসল শেষ করে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। অনি হাঁটুর ভাজে থুঁতনি রেখে এক ধ্যানে বসে আছে। গভীর চিন্তায় মগ্ন সে। রিশাদ অনির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তবে মনে হচ্ছে না অনির এ বিষয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ আছে।
–“অনন্যময়ী! “(রিশাদ)
রিশাদের কণ্ঠে নিজের নাম শুনে ধ্যান ভাঙে অনির।
–“জি বলুন।”(অনি)
–“কি হয়েছে আপনার?কদিন ধরেই দেখছি আপনার কি মন খারাপ?”(রিশাদ)
–“কই না তো।”(অনি) নিষ্পাপ চাহনিতে রিশাদের দিকে তাকায় অনি। রিশাদ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। অনির কথা তার বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। তবুও সে অনির কথায় সম্মতি জানিয়ে চোখ দুটো কুঞ্চিত করে অনির দিকে তাকায়।
–“এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন আমার দিকে?কিছু বলবেন?”(অনি)
–“না তেমন কিছুনা। “বলেই রিশাদ চলে যেতে নেয়। পুনরায় পিছনে ফিরে অনিকে উদ্দেশ্য করে বলেঃ
–“আপনি যখন নিচে যাবেন আম্মুকে একটু বলবেন আমার জন্য একটু কফি পাঠিয়ে দিতে।”(রিশাদ)
অনি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে রান্নাঘরের দিকে যায়। রান্নাঘরে তখন শায়লা বেগম ব্যস্ত ছিলেন। কিছুটা সময় নিয়ে অনি নিজেই রিশাদের জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে আসে।
কফি নিয়ে রিশাদের রুমে প্রবেশ করে অনি। রিশাদ বিছানায় বসে কিছু ফাইল চেক করছিল। অনির উপস্থিতি টের পেয়ে রিশাদ একবার মাথা তুলে তাকিয়ে পুনরায় কাজে মন দেয়।
অনি রিশাদের দিকে কফির মগটা এগিয়ে দিলে সে সেদিকে না তাকিয়েই কফির মগটা হাতে নেয়। অনি সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। কিছু একটা বলতে চেয়েও বলে না।
রিশাদ কফির মগে চুমুক দেয়ার কয়েক সেকেন্ড পর অনির দিকে তাকায়। কফির স্বাদ নিয়ে বুঝতে পারে এটা অনির হাতে বানানো কফি। এর আগেও সে দু একবার অনির বানানো কফি খেয়েছে তাই অনির বানানো কফির স্বাদের সাথে সে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত।
রিশাদ অনির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলেঃ
–“থ্যাংকস ফর দ্যা কফি। “(রিশাদ)
রিশাদের কথার জবাবে কোন উত্তর না দিয়ে অনি মুচকি হাসে। কোথাও না কোথাও সে মনে মনে চাইছিল যাতে রিশাদ বুঝতে পারে কফিটা সে নিজে হাতে বানিয়েছে। এমন অস্বাভাবিক ভাবনার কথা ভেবে অনি কিছুটা অবাক হয়। আজকাল যতসব আজগুবি ভাবনার মধ্যে দিয়ে বিচরণ করছে সে।
রিশাদের সাথে টুকটাক কথাবার্তা শেষ করে অনি রান্নাঘরের দিকে যায়। শায়লা বেগমের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে শায়লা বেগমকে সাহায্য করে রান্নার কাজে। মিথিলার জন্য নিজের হাতে স্যুপ বানায় অনি।
হাতের কাজগুলো শেষ করে একটা বাটিতে স্যুপ ঢেলে নিয়ে মিথিলার রুমের দিকে যায় অনি। মূলত সে যেতে চাইছিল না। শায়লা বেগম,আমেনার মা দুজনই মূলত কাজে ব্যস্ত ছিলেন তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকেই যেতে হয়। অনি মিথিলার ঘরে যেতে চাইছিল না কারণ সে বুঝতে পারছিল না মিথিলার মানসিক অবস্থা কেমন আছে। মিথিলার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে যে কিছুটা হলেও তার অবদান আছে তা সে বুঝতে পেরেছে। সেদিন যদি অনি উপস্থিত না থাকতো তবে তো আর তার সাথে রিশাদের বিয়েটা হতো না। হতেও তো পারত অনির জায়গায় আজ মিথিলা থাকত। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়ত তা চাননি তাই আজ সে এবাড়িতে এসে রিশাদের বউ হয়ে।
মিথিলার রুমের দরজায় নক করবে এমন সময়ই দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন সাবরিনা বেগম। সাবরিনা বেগম অনিকে দেখে কিছুটা অবাক হন। তবে তার হাতে স্যুপের বোলটা দেখে তার উপস্থিতির কারণটা বুঝতে পারেন। সাবরিনা বেগমও অবশ্য মিথিলার জন্য খাবার আনতেই যাচ্ছিলেন।
সাবরিনা বেগমের হাতে স্যুপের বাটিটা দিয়ে চলে যেতে চাইলে পেছন থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বর শুনে অনি থেমে যায়।
–“ভাবী!”(মিথিলা)
হ্যা মিথিলাই তাকে ডাকছে। অনি পেছনে ফিরে দরজার বাইরে থেকে মিথিলার দিকে তাকায়।
অনির কোন সাড়া না পেয়ে মিথিলা পুনরায় বলেঃ
–“ভাবী,আপনি চলে যাচ্ছেন কেন? প্লিজ ভেতরে আসুন না!” ধীর গলায় কথাগুলো বলে মিথিলা।
রুমের ভেতরে প্রবেশ করে অনি। অনির দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে মিথিলা। কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করছে সে।
চলবে…….
আসসালামু আলাইকুম?
অনন্যময়ী
সানজিতা_তুল_জান্নাত
বোনাস_পার্ট
রুমের ভেতরে প্রবেশ করে অনি। অনির দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে মিথিলা। কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করছে সে।
একটু আগেই সাবরিনা বেগম যে কথা গুলো বলছিলেন সেগুলোই তার মস্তিষ্কে ক্রমাগত ঘুরপাক খাচ্ছে।
সাবরিনা বেগমের কোলে মাথা রেখে নীরবে অশ্রুপাত করে যাচ্ছিল। সন্তানের এই অসহনীয় অবস্থায় তার মনটা যেন ক্রমাগত ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাচ্ছিল। এসময় তার মাথায় আসে অনির কথা। অনির জীবনের কথা।
অনির জন্মের আগে থেকে বর্তমান পর্যন্ত ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা তুলে ধরে মিথিলার সামনে। সাবরিনা বেগমের কিছুই অজানা ছিলনা। শায়লা বেগমের কাছে সবটাই শুনেছিলেন তিনি। এসবের কিছুই মিথিলার জানা নেই। যদি আগে থেকেই জানা থাকত তবে মিথিলা হয়ত এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দশবার ভাবত। যদিও মিথিলা নিজেও অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হয়েছে তবুও সে এক পরিপূর্ণ পরিবারের মাঝে বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তার জীবনটাও খুব একটা সুখকর ছিল না।
সাবরিনা বেগমের কথাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শোনে মিথিলা। অনির সম্পর্কে তার কিছুই জানা ছিল না। আজ এতকিছু জানার পর অনির প্রতি সম্মান আর ভালোবাসা ছাড়া কিছুই জন্মায় না। যদিও অনির প্রতি কোনরূপ খারাপ ধারণা বা খারাপ মনোভাব তার ছিল না। মানসিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিল সে।
সে তো শুধুমাত্র তার অপ্রকাশিত একতরফা ভালোবাসা নিয়ে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিল। আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে। তবে তার ভাগ্য ভালো ছিল। সৃষ্টিকর্তা তাকে বাঁচার সুযোগ দিয়েছে। তাই সে চায় এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে তার ভুল শুধরে নিতে।
মিথিলার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় অনি। মিথিলা ইশারায় পাশে বসতে বলে।
অনি মিথিলার পাশে বসে পড়ে। মিথিলার সামনে দাঁড়াতেই একরাশ অপরাধবোধ তাকে ঘিরে ধরে। তার উপর মিথিলার এমন অদ্ভুত চাহনিতে অনি যেন আরো বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে।
–“কেমন আছো মিথিলা?এখন শরীর ঠিক আছে?”(অনি)
–“এইতো ভাবী। এখন অনেকটাই ভালো আছি।তোমার কি খবর বলো। তুমি কেমন আছো?”(মিথিলা)
–“আমি?আমি তো আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছি।”(অনি)
মিথিলার সাথে আরো কিছুক্ষণ টুক টাক কথা বলে অনি। মিথিলার চেহারায় মলিনতা থাকলেও অনির সাথে বেশ জোর করেই হেসে হেসে কথা বলে মিথিলা।
এ বাড়িতে আসার পর থেকে এই প্রথম সে মিথিলার সাথে এভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। মূলত আগে থেকেই মিথিলার সম্পর্কে জানার কৌতূহল ছিল তার। তবে মিথিলা এমন ভাবে নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে রেখেছিল যে সেভাবেই কোনদিন সুযোগই হয়নি তার সাথে কথা বলার।
মিথিলার সাথে বেশ ভালো সময় কাটে অনির। মিথিলাকে এভাবে হাসিখুশি দেখে সব থেকে বেশি যে মানুষটা খুশি হন তিনি হলেন সাবরিনা বেগম। মিথিলাকে খাইতে দিতে চাইলে মিথিলা তাকে আটকে দেয়।
মিথিলার আবদার সে অনির হাতে খাবে। অনিও বেশ খুশি হয় এত অল্প সময়ের মধ্যেই মিথিলাকে তার সাথে এত সহজ হতে দেখে। কি অদ্ভুত ব্যাপার তার মনেই হচ্ছে না এই সেই মিথিলা যে দুদিন আগেই নিজের প্রাণ শেষ করার চেষ্টা করেছিল নিজেকে সবার আড়ালে আড়ালে রাখতো। যে মেয়েটা অনির সামনেও আসতো না আজ সেই অনির হাতে খাওয়ার জন্য আবদার করছে।
অনি মিথিলার এমন আবদার শুনে মুচকি হাসে। সাবরিনা বেগমের হাত থেকে স্যুপের বাটিটা নিয়ে নিজ হাতে খাইয়ে দেন মিথিলাকে। খুব যত্ন নিয়ে সে মিথিলাকে খাইয়ে দেয়। অনির সাথে কথা বলে মিথিলার বেশ হালকা লাগছে। তার কষ্ট বোধ হয় কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মিথিলাকে খাইয়ে দিয়ে আরো কিছুক্ষণ সময় কাটায় অনি।
মাগরিবের আযান দিলে মিথিলার রুম থেকে বেরিয়ে আসে অনি। রুমে গিয়ে রিশাদকে কোথাও দেখতে পায়না। হয়তো মসজিদে গেছে মাগরিবের নামাজ পড়তে। অনি নিজেও অযু করে এসে মাগরিবের নামাজ আদায় করে নেয়। নামাজ শেষ করে জাহানারা বেগমের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে অনি।
কথা বলা শেষ করে অনির খেয়াল হয় রিশাদ এখনো বাড়ি ফেরেনি। অনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে প্রায় সাড়ে সাতটা বাজে। রিশাদকে কল দেয় অনিম তবে ফোন রিসিভ করেনা। দুতিনবার কল দিয়েও রিশাদের কোন রেস্পন্স পায়না অনি।
হতাশ হয়ে ফোনটা রেখে নিচে নেমে আসে।
ড্রইংরুমে বসে কফি খাচ্ছিলেন রায়হান সাহেব। অনি নিচে এসে রায়হান সাহেবের সাথে কিছুক্ষণ বসে গল্প করে। শায়লা বেগম অনির জন্যও এককাপ কফি পাঠিয়ে দেন। কফির আড্ডায় বেশ ভালো একটা সময় পার করে অনি আর রায়হান সাহেব। রায়হান সাহেবের সাথে এভাবে আড্ডা দিয়ে মনটা ভালো হয়ে যায় অনির।
একটু পরেই হন্তদন্ত হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে রিশাদ। রায়হান সাহেবের পাশে বসে পড়ে সে।
–“কি ব্যাপার তোমার এত দেরি হলো কেন আসতে?নামাজ পরতে তো আমার সাথেই বেরিয়েছিলে। নামাজ পড়ে কোথায় উধাও হয়ে গেছিলে বলো তো?(রায়হান সাহেব)
–“মসজিদ থেকে বেরিয়ে শিউলির সাথে দেখা হয়ে গেছিল। ওর সাথেই কথা বলতে বলতে ওদের দোকান থেকে একটু চা খেয়ে আসলাম আর কি।”(রিশাদ)
–“ওহ আচ্ছা। আমাকে বললেও পারতি আমিও যেতাম তোর সাথে।”(রায়হান সাহেব)
–“তুমি তো আগেই চলে এসেছিলে মসজিদ থেকে।”(রায়হান সাহেব)
রায়হান সাহেবের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে রিশাদ। কথার ফাঁকেফাঁকে অনির দিকে তাকায় রিশাদ। কেমন থম থমে হয়ে আছে। মনে হচ্ছে যেন কোন ঝড়ে পূর্বাভাস। কিন্তু কেন?
রিশাদের দিকে কেমন অদ্ভুত চাহনি অনির। মনে হচ্ছে কোন কারণে খুব রেগে আছে যা সে চেপে রাখার চেষ্টা করছে অনি। কিন্তু কি করলো রিশাদ যে এভাবে রেগে আছে অনি। রিশাদ ভাবনায় পড়ে যায়। অন্যমনস্কভাবে তার বাবা রায়হান সাহেবের কথায় শুধু হু হা করে যাচ্ছে।
সে ভাবনায় এতটাই মশগুল ছিল যে কখন অনি তার সামনে থেকে উঠে চলে গেছে তা টেরই পায়নি অনি। রিশাদ চারদিকে চোখ বুলিয়ে কোথাও অনিকে দেখতে না পেয়ে তার বাবাকে বলে বসেঃ
–“বাবা অনন্যময়ী কোথায় গেল?”(রিশাদ)
রায়হান সাহেব কিছুটা অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
–“অনন্যময়ী কোথায় গেল মানে? এইতো এক্ষুণি বলে গেল যে রুমে যাচ্ছে। কোথায় হারিয়েছিলি তুই?”(রায়হান সাহেব)
–না কিছুনা। (রিশাদ) বলেই রিশাদ উঠে উপরে নিজের রুমের দিকে যায়।
রুমে ঢুকেই দেখতে পায় অনি বিছানায় বসে ফোনে কিছু একটা দেখছিল। রিশাদ রুমে এসেছে একবারও সেদিকে তাকায় না অনি। অনি যে ইচ্ছে করেই এমন ভাব করছে তা রিশাদ বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছে।
রিশাদ গিয়ে অনির কাছে বসে পড়ে। অনেকটা কাছাকাছিই বসে পড়ে সে। অনির সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপই নেই। সে এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন কোন এক মহাকাজে ব্যস্ত। বাকি কোন কিছুর খেয়াল নেই তার।
রিশাদ অনির দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য হালকা কাশি দেয় এতেও সে অনির কোন হেলদোল দেখতে পায়না।
কিছুটা শব্দ করে বিড় বিড় করে বলে;
–“মেমসাহেব আজ খেপেছে।”(রিশাদ)
রিশাদের কথা অস্পষ্টভাবে অনির কানে পৌঁছায়। বাম পাশে ভ্রু বাঁকিয়ে রিশাদের দিকে তাকায় অনি। অনির এমন চাহনি রিশাদের খুব নজর কাড়ে। রেগে গেলে অনির তাকানোর ধরনটা অন্যরকম মনে হয় তার কাছে। ঘোর লাগানো চাহনি। এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে রিশাদ অনির দিকে।
রিশাদকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অনির মেজাজটা আরো খারাপ হয়। চোখ মুখ খিচিয়ে রিশাদের দিকে তাকায়। অনিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ঘাবড়ে যায় রিশাদ।
রিশাদ মিন মিন করে বলেঃ
–“কি হয়েছে আপনার?এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”(রিশাদ)
–“আপনার ফোন কোথায় একবার বের করে দেখুন তো।”(অনি)
রিশাদ ফোন বের করে তার চোখ কপালে ওঠে। অনির অনেকগুলো মিসড কল। নামাজ পড়ার সময় সাইলেন্ট করে রেখেছিল। পরে চেক করতে ভুলে গিয়েছিল।
–“সরি!আসলে নামাজ পড়ার সময় সাইলেন্ট করে রেখেছিলাম।পরে ভুলে গিয়েছি। প্লিজ সরি।”(রিশাদ)
–“তা না হয় বুঝলাম। আপনি একা একা গিয়েছিলেন কেন চা খেতে?”(অনি)
–“মানে?আমি তো প্রায়ই একাই চা খেতে যাই। আর কাকে নিয়ে যাবো?”(রিশাদ)
–“আগে যেতেন এখন আর যাবেন না।”(অনি)
–“আচ্ছা ঠিক আছে যা বলবেন তাই হবে। কিন্তু কাকে নিয়ে যাবো আমার সাথে।”(রিশাদ)
–“কেন আপনার সামনেই তো দাঁড়িয়ে আছি। আমাকে নিয়ে যাবেন।”(অনি)
–“আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু আপনাকে তো আমি খুঁজেই পাইনা সারাদিন। আপনি আবার যাবেন আমার সাথে চা খেতে। এতো আমার পরম।সৌভাগ্য ম্যাম।এই তো সেদিন বলছিলেন আমি অফিস যাওয়া শুরু করলে নাকি আপনি বাসায় বসে বসে বোর হবেন। তো আজ বিকেল থেকে আপনাকে তো একবারও আমার ত্রিসীমানায় দেখলাম না।”(রিশাদ)
–“আপনি সব সময় এত বেশি বোঝেন কেন বলুন তো?বিকেল বেলা তো আমি মিথিলার রুমে ছিলাম। “(অনি)
–“ওহ হ্যা ভালো কথা মিথিলা এখন কেমন আছে? “(রিশাদ)
–“এখন অনেকটাই বেটার। অনেকক্ষণ ধরেই আজ কথা হয়েছে ওর সাথে আমার।”(অনি)
–“ওহ আচ্ছা। আপনাকে কি কিছু বলেছে নাকি?আপনি কি কিছু জানতে পেরেছেন?”(রিশাদ)
–“কোন ব্যাপারে বলুন তো?”(অনি)
–“এই যে হঠাৎ করে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিলো কেন?”(রিশাদ)
রিশাদের কথায় অনি কিছুটা চিন্তায় পড়ে গেছে। রিশাদকে কি উত্তর দেবে ভেবে পাচ্ছে না। এদিকে সে কারণটা জানা সত্ত্বেও রিশাদকে এই সময় বলতে চাচ্ছেনা মিথ্যাও বলতে পারবে না। তাই সে কৌশলে রিশাদের প্রশ্নটা এড়িয়ে যায়। রিশাদের কিছুটা খটকা লাগে। তার মনে হচ্ছে অনি এই বিষয়ে কিছু একটা জানে কিন্তু তাকে বলতে চাচ্ছে না। রিশাদ আপাতত এ বিষয়ে ভাবতে চাচ্ছে না। মিথিলার এমন একটা কাজের পেছনের কারণটা জানার চেয়ে বেশি জরুরি তার সুস্থতা।
অনির সাথে কথা বলতে বলতেই শায়লা বেগম সবাইকে নিচে ডাকেন ডিনার করার জন্য। অনি রিশাদ নিচে নেমে আসে।
ডাইনিং টেবিলে সবাই উপস্থিত হয়েছে। একটু পরেই মিথিলাকে ধরে ধরে নিয়ে আসে সাবরিনা বেগম। অনি তার পাশের চেয়ারটা টেনে মিথিলাকে বসতে দেয়। মিথিলা ম্লান হাসি দিয়ে অনির পাশে বসে পড়ে।
মিথিলাকে দেখে সবাই বেশ খুশি হয়। ঝড় ঝাপটা শেষে আজ বেশ কয়েকদিন পর পুরো পরিবার একসাথে খাবার খাচ্ছে। অনি প্রতিনিয়ত এই পরিবাবের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। পরিবারের প্রতিটি মানুষের মায়ায় জড়িয়ে যাচ্ছে অনি। যত দিন যাচ্ছে সম্পর্কগুলো আরও দৃঢ় হচ্ছে। কোন এক অলৌকিক শক্তির বলে যদি সারাজীবন এই পরিবাবের মানুষগুলোর সান্নিধ্য পেত খুব কি মন্দ হতো??মাঝে মাঝে তারও ইচ্ছে এই পরিবারকে দু হাতে আঁকড়ে ধরতে;সংসারের মায়ায় নিজেকে আবদ্ধ করতে।
চলবে………..
আসসালামু আলাইকুম?