অপরিচিত | পর্ব ২১ | বিশ্বাসঘাতকতার চরম পরিণতি ও আরফার আত্মত্যাগ

মুজাহিদ খানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস এবং আরফার আত্মত্যাগের এক করুণ কাহিনী। বিশ্বাসঘাতকতার চরম পরিণতিতে আরফা ও মুজাহিদ খানের জীবন সংকটে পড়ার গল্প।

অপরিচিত

লেখিকাঃ তাহমিনা তমা
পর্বঃ ২১

You are under arrest.

মুজাহিদ খান অবাক হয়ে বললো, মিস্টার রিয়ান এটা কী ধরনের অসভ্যতা ?

রিয়ান মুজাহিদ খানের দিকে তাকিয়ে বললো, সরি স্যার কিন্তু এটা আমাদের কাজ। মিস্টার হাসান মাহমুদ এবং তার ছেলে ইশতিয়াক মাহমুদ মিলে আপনাকে খুন করার চেষ্টা করেছে।

মুজাহিদ খান চমকে উঠলেন রিয়ানের কথায়। কানে মনে হয় কেউ গরম সিসা ঢেলে দিয়েছে। মাহতাবকে হারিয়ে হাসানকে সে নিজের ছেলের মতো দেখেছে আর তার নামে এসব কী শুনছে।

মুজাহিদ খান কাঁপা গলায় বললো, কী বলছো এসব আবোলতাবোল ?

এবার মেহরাব এগিয়ে এসে বললো, রিয়ান ভাইয়া কোনো মিথ্যা বলছে না। তোমার বিশ্বস্ত এই হাসান তার ছেলের সাথে মিলে তোমাকে তিলে তিলে মেরে ফেলার জন্য খাবারে ড্রাগস মিশিয়েছে মাসের পর মাস। তোমার খাবার ল্যাবে টেস্ট করে সেটা জানতে পারি। এতে আমার সন্দেহ হয় আর রিয়ান ভাইয়ার সাথে মিলে সব প্রমাণ জোগাড় করেছি ওদের বিরুদ্ধে।

মুজাহিদ খান এটা শুনে দাঁড়ানো থেকে পরে যেতে নিলে মেহরাব তাকে ধরে সোফায় বসিয়ে দিলো। এখানে যা হচ্ছে সবই লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে সব টিভি চ্যানেলে।

মুজাহিদ খান হাসানের দিকে তাকিয়ে বললো, কেনো,,, কেনো এমন করলে হাসান ?

মেহরাব আবার বললো, আমি বলছি দাদাজান, এরা কেনো এমন করেছে। তোমাকে খুন করে এই সমস্ত প্রোপার্টি নিজেদের দখলে নিতে চেয়েছিলো। তুমি আমাকে আর মমকে খোঁজার জন্য একে পাঠালেও এ কখনো আমাদের কাছে যায়নি। এমনকি আরফা আমাদের হেল্প করেছে বলে ওকে কিডন্যাপ করেছিলো ওর ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য। কিন্তু আমার জন্য করতে পারেনি আমি আরফাকে বাঁচিয়ে আমাদের ফার্মহাউসে গেলে সেটাকেও সবার সামনে নেগেটিভ করে উপস্থাপন করে ইশতিয়াক।

একজন সাংবাদিক বলে উঠলো, তার মানে ডক্টর আরফা আর আপনার মাঝে কোনো সম্পর্ক ছিলো না ?

মেহরাব আরফার দিকে একবার তাকিয়ে বললো, নাহ্ ,,,,,, আরফার সাথে আমার হসপিটালের ওনারের সাথে একজন এমপ্লয়ির যেমন সম্পর্ক থাকে ঠিক তেমন সম্পর্ক ছিলো।

আরেক সাংবাদিক বললো, তাহলে বিয়ে কেনো করলেন ?

মেহরাব বললো, আমরা বিয়ে না করলে আপনারা আরফার বেঁচে থাকা মুশকিল করে তুলতেন। আপনাদের জন্য আরফা সেদিন সুইসাইড করে গিয়েছিলো। এসব থেকে ওকে বের করে আনার জন্য এই বিয়ে।

সবাই গুনগুন করছে সব জেনে। আরফা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে অনেকে অনেক প্রশ্ন করছে কিন্তু সে কিছুই বলছে না।

মেহরাব রেগে বললো, এই সবকিছুর জন্য দায়ী এই দুজন বিশ্বাসঘাতক।

মুজাহিদ খান উঠে ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো হাসানের গালে। তাতে হাসান রেগে আগুন হয়ে তাকালো মুজাহিদ খানের দিকে। হাসান মুজাহিদ খানকে উল্টো থাপ্পড় মারার জন্য হাত তুলতেই মুজাহিদ খান বিস্মিত হয়ে তাকালো।

থাপ্পড় দেওয়ার আগেই মেহরাব হাসানের হাত মুচড়ে ধরলো আর বললো, তোর সাহস হলো কীভাবে দাদাজানের দিকে হাত বাড়ানোর ?

মেহরাব হাসানের গালে একটা ঘুষি মেরে নিচে ফেলে দিলো। বাবাকে মারতে দেখে ইশতিয়াক মেহরাবকে মারতে এলে মেহরাব তাকেও এক ঘুষিতে বাপের পাশে ফেলে দিলো। এসব দেখে মুজাহিদ খান ধুপ করে বসে পড়লো সোফায়। পুলিশ গিয়ে হাসান আর ইশতিয়াককে শক্ত করে ধরে ফেললো।

হাসান রেগে মেহরাবকে বললো, হ্যাঁ এই সব কিছু আমি করেছি। শুধু এসব কেনো তোর বাপ কোনো এক্সিডেন্টে মরেনি তাকেও আমি মেরেছি। যে ট্রাক তোর বাবার গাড়ি ধাক্কা মেরেছিলো সেটা আমার ছিলো শুনতে পেয়েছিস। এর কপাল ভালো ছিলো তাই বেঁচে গেছে (মেহেককে দেখিয়ে)। তোকে নিয়ে তোর মা চলে না গেলে তোকেও শেষ করে দিলাম।

মুজাহিদ খান, মেহেক, মেহরাব যেনো নিজেদের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। পাথরের মতো জমে গেছে। উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে শুনছে সব। রাগের মাথায় ইশতিয়াক বা হাসানের হুঁশ নেই কী থেকে কী বলছে ?

হাসান আবার বললো, তোর বাপ সেই ছোটবেলায় বিদেশ চলে গেছে আমি ছিলাম তোর দাদার সাথে। এই বিজনেসের জন্য মাথার ঘাম পায় ফেলে পরিশ্রম করেছি। এই সবকিছুতে তোদের থেকে আমার অধিকার বেশি। আর নিজের অধিকার আদায়ের জন্য এসব করেছি।

মুজাহিদ খান বললো, রাস্তা থেকে তুলে এনে লেখাপড়া করিয়ে এখানে দাঁড় করিয়েছি তার প্রতিদান এভাবে দিলি ?

হাসান আবার রেগে বললো, এমনই এমনই তো করোনি মিস্টার মুজাহিদ খান। আবার বাবা তোমার জন্য জেলে গিয়েছিলো তাই সাহায্য করেছো নিজের ভুলের মাশুল দিতে।

মুজাহিদ খান নিজের বুকের বা পাশটা চেপে ধরে অনেক কষ্টে বললো, তোর বাবা কোম্পানি জিনিস চুরি করে ধরা পড়েছিলো। তারপর যা করার পুলিশ করেছে।

কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই ইশতিয়াক পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে গান বের করে বললো, বুড়ো যা করার এই নাতির জন্য করেছিস তাই না ? তোর নাতিকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিবো তারপর তোর প্রোপার্টি নিয়ে বসে থাকিস।

একটা গুলির আওয়াজে সবাই চমকে উঠলো। মুজাহিদ খান আর মেহেক মেহরাব বলে এক চিৎকার করে উঠলো। মুজাহিদ খান চিৎকার করেই বুকের বা পাশ চেপে ধরে আসতে আসতে চোখ বুজে নিলো। এদিকে মেহরাব হঠাৎ একটা ধাক্কা অনুভব করলো আর তারপরেই গুলির শব্দ। এতো তাড়াতাড়ি সব হয়ে গেছে কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। মেহরাব নিচে পরে গেছে ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেলো আরফা বুকে হাত চেপে দাঁড়িয়ে আছে। সাদা গ্রাউনের অনেকটা অংশ লাল রক্তে ভিজে গেছে।

মেহরাব বাড়ি কাঁপিয়ে আরফা বলে চিৎকার করে উঠলো। পুলিশ তাড়াতাড়ি ইশতিয়াককে ধরে ফেললো, আরফার মা দৌড়ে আরফার কাছে যেতেই আরফা ধীরে ধীরে নিচে বসে পড়লো। নিজের বুকের দিকে তাকিয়ে দেখলো টকটকে লাল রক্ত ধীরে ধীরে সাদা গ্রাউনটা লাল করে তুলছে। মেহরাব উঠে দৌড়ে এসে আরফাকে ধরতেই আরফা ঢলে পড়লো মেহরাবের বুকে। মেহরাব আরফার মাথা কোলে নিয়ে ফ্লোরে বসে পড়লো আর আরফার মা তার সামনে বসলো।

মেহরাব ভেজা গলায় বললো, এটা কী করলে আরফা আর কেনো করলে ?

আরফার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তবু ভেঙে ভেঙে বললো, আ,,আপনাকে ধাক্কা না দিতে গুলি লেগে যেতো আর আমি তা কী করে হতে দিতাম বলুন ?

মেহরাব বললো, আমার জীবন বাঁচাতে গিয়ে তুমি নিজে যে আহত হয়ে গেলে।

আরফা একটু দম নিয়ে বললো, কাউকে হারানোর শক্তি আমার নেই। আর শুনুন আমার মায়ের আমি ছাড়া আর কেউ নেই একটু দেখে রাখবেন প্লিজ।ভাববেন না আপনার জীবনে আমার উপস্থিতি খুব কম সময়ের জন্য হয়েছে তাই ভুলে যেতে পারবেন সহজেই।

আরফার মা কেঁদে বললো, আরফা তোকে ছাড়া আমি কীভাবে বাঁচাবো মা ? তুই যে আমার একমাত্র সম্ভব।

আরফা কী বলবে তার মাকে ? মায়ের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে একবার তাকালো। এক মায়ের কোল ভরা রাখতে গিয়ে আরেক মায়ের কোল খালি করে দিলো আরফা। মিমিও হাউমাউ করে কাঁদছে আরফার সামনে বসে। ধীরে ধীরে আরফার চোখ বন্ধ হয়ে এলো।

তখনই মেহেক চিৎকার করে বললো, মেহরাব তোর দাদাজান।

মেহরাব ঘুরে তাকিয়ে দেখলো দাদাজান সোফায় পরে আছে অজ্ঞান হয়ে। মেহরাবের নিজেকে বড্ড অসহায় লাগছে এখন। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। এসব কী হয়ে গেলো ? আরফা আর মুজাহিদ খানকে দ্রুত হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলো। মেহেক মুজাহিদ খানের চিকিৎসা করতে গেলো আর মেহরাব আরফাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলো। গুলিটা আরফার বাঁপাশে লেগেছে তবে কপাল ভালো ছিলো হার্ট পর্যন্ত যায়নি একটা হাড়ে আটকে আছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে আর এখনো রক্তের ব্যবস্থা করা যায়নি। আরফার অপারেশন করতে গিয়ে লাইফে ফাস্ট টাইম মেহরাবের হাত কাঁপছে একটু না বরং অনেক কাঁপছে।

পাশ থেকে একজন ডক্টর বলে উঠলো, স্যার আপনার হাত অস্বাভাবিকভাবে কাঁপছে। এভাবে কাঁপলে আপনি অপারেশন করবেন কীভাবে আর এতে রোগীর বাঁচার চান্স আরো কমে যাবে।

কথাটা শুনে মেহরাব তার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো আর সে চুপ করে গেলো। মেহরাবের চোখ দুটো বারবার ঝাপসা হয়ে আসছে পানিতে।

মেহরাব চোখ বন্ধ করে ভাবলো, না আমাকে ভয় পেলে চলবে না। আমার ডাক্তারি জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আজ আমার সামনে। যেটা কখনোই হারলে চলবে না।

মেহরাব চোখের পানিটা মুছে নিয়ে অপারেশনে মনোযোগ দিলো। কিন্তু আরফার অবস্থা একটু একটু করে খারাপ হচ্ছে। রক্তক্ষরণও বন্ধ হচ্ছে না।
দীর্ঘসময় পর অপারেশন শেষ হলে আসতে আসতে সব ডক্টর বের হয়ে গেলেও মেহরাব দাঁড়িয়ে রইলো আরফার সামনে। অপারেশন সাকসেসফুল হলেও কিছু বলা যাচ্ছে না। জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত কিছু বুঝা যাবে না। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য ব্রেনে চাপ পড়েছে।

মেহরাব আরফার কপালে কিস করে বললো, কেনো করলে আরফা কেনো ? তোমার কিছু হয়ে গেলে সারাজীবন নিজের চোখে অপরাধী হয়ে থাকবো আমি। নতুন করে বাঁচার জন্য তোমার হাত ধরেছিলাম আর তুমি কিনা পালিয়ে যেতে চাইলো ? এতোবড় অন্যায় আমার সাথে তুমি করতে পারো না আরফা।

মেহরাব চোখ মুছতে মুছতে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে এলো৷ আরফাকে আইসিইউতে সিফট করা হবে একটু পর। মেহরাব বের হলেই তাইয়েবা দৌড়ে ওর সামনে চলে গেলো।

কাঁদতে কাঁদতে বললো, আমার মেয়ে কেমন আছে বাবা ? ওকে ছাড়া আমার আর কেউ নেই। দয়া করে ওকে বাঁচিয়ে দাও আমি ওকে নিয়ে এই অভিশপ্ত শহর ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবো। এই শহর নিজের স্বার্থের জন্য কারো খুন করতেও ভাবে না। থাকতে চাই না আমি এই শহরে।

তাইয়েবা কাঁদতে কাঁদতে মেহরাবের সামনে বসে পড়লে মেহরাব তাড়াতাড়ি তার হাত ধরে নিচে বসে। মেহরাবের চোখেও পানি টলমল করছে। বুকের বা পাশটায় প্রচন্ড ব্যাথা করছে। কিন্তু কেনো, এক দিনে কী কাউকে ভালোবাসা সম্ভব সেটা জানে না সে তবে তার প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে। যেটা আজ থেকে অনেক বছর আগে সিনথিয়াকে হারিয়ে হয়েছিলো।

মেহরাব ধরা গলায় বললো, ওর কিছু হবে না মা, কিছু হতে পারে না।

মেহরাব উঠে চলে যেতে নিলে দিয়ান ওর সামনে এসে দাঁড়ায় মলিন মুখে। মেহরাব ব্যস্ত হয়ে বলে, কী হয়েছে দিয়ান ? দাদাজান ঠিক আছে তো ?

দিয়ান তখনো চুপ করে মাথা নিচু করে আছে। মেহরাব বুঝতে পেরে দৌড়ে আইসিইউতে গেলো যেখানে মুজাহিদ খানকে রাখা হয়েছিলো। গিয়ে দেখে মেহেক মুজাহিদ খানের সামনে বসে তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। মেহরাব গিয়ে মেহেকের কাঁধে হাত রাখতেই ভেজা চোখে ঘুরে তাকালো মেহেক।

মেহরাব কাঁপা গলায় বললো, মম দাদাজান ?

মেহেক কান্নাভেজা গলায় বললো, বাবা ডাকার একটা উপায় অবশিষ্ট ছিলো তাও শেষ হয়ে গেলো। আজ একেবারে অনাথ হয়ে গেলো রে মেহরাব।

কথাটা শেষ হতেই দুচোখের বাঁধ ভেঙে গেলো মেহেকের। মেহরাব ধুপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো। মেহেক উঠে ভাবলেশহীনভাবে বের হয়ে গেলো আর মেহরাব তখনো সেখানে বসে।

আমাকে মাফ করে দিস রে মা। অনেক অন্যায় করেছি তোর সাথে তুই মাফ না করলে মরেও শাস্তি পাবো না আমি।

মৃত্যুর আগে মুজাহিদ খানের বলা কথাগুলো মেহেকের কানে বাজছে। বাবা হারানোর কষ্ট আজ আবার অনুভব করছে মেহেক। আর মেহরাব একের পর এক ধাক্কা সয্য করতে পারছে না। ফজরের আযান কানে এলে উঠে চলে গেলো নামাজ পড়তে। গায়ের সাদা ব্লেজারে আরফার রক্ত গুলো শুঁকিয়ে গেছে। মেহরাবের কেবিনে সবই আছে। রক্তভেজা কাপড় চেঞ্জ করে গোসল করে নিলো আযান শেষে নামাজটা পড়বে বলে। গতকাল সকালে আরফা বলেছিলো নামাজ পড়তে। কিন্তু এভাবে পড়তে হবে মেহরাব কখনো ভাবেনি। চোখের পানি বাঁধ মানছে না। দাদাজানের স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এক আপনজন ছেড়ে চলে গেছে আর অন্যজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আর নিরব দর্শকের মতো দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই মেহরাবের। সকালে মুজাহিদ খানের দাফনের ব্যবস্থা করা হলো তাদের পারিবারিক কবরস্থানে। দাফন শেষে মেহরাব কিছু সময় কবরের পাশে বসে চোখের পানি ফেলতে লাগলো। এতো ধাক্কা সয্য করতে পারেনি মুজাহিদ খান। এমনই হার্ট দুর্বল ছিলো তাই এ্যাটাক করেছে, রিকুভার করার মতো শক্তি তার হার্ট বা শরীরের কোনোটারই ছিলো না। সকালে সবাই বাড়ি এলেও তাইয়েবা এখনো আরফার আইসিইউর সামনে বসে আছে। আর তার সাথে আরফার মামা আর মামি বসে আছে। এখন আর শব্দ করে কাঁদছে না শুধু পানি পড়ছে চোখ থেকে। মেয়েকে নিয়ে এই শহরে এসেছিলো মানুষের জীবন বাঁচাতে শিখতে আর এই শহর তার মেয়ের জীবনই কেড়ে নিতে চাইছে। তাইয়েবা ঠিক করে নিলো আরফা সুস্থ হলে তাকে নিয়ে গ্রামে চলে যাবে আর কখনো পা রাখবে না এই শহরে। আর মেহরাব তো বলেছে আরফাকে সে বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছে তাহলে সেও নিশ্চয়ই চাইবে আরফা তার জীবন থেকে চলে যায়। এসব ভাবছিলো আর চোখের পানি ফেলছিলো তখনই আরফার আইসিইউ কেবিনে থেকে এক নার্স প্রায় দৌড়ে বের হয়ে ডক্টর ডেকে আনলো আর তারাও দৌড়ে আরফার কেবিনে ঢুকলো। আরফার মায়ের মনে ভয় ঢুকে গেলো আরফা ঠিক আছে তো। মেহরাব কবরের সামনে বসে ছিলো পকেটের ফোন বেজে উঠলে তার ঘোর কাটে। পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে হসপিটালের ফোন তাই তাড়াতাড়ি রিসিভ করে। কিন্তু ওপাশ থেকে যা শুনতে পায় মেহরাবের পায়ের নিচের মাটি সরে যায়। বুকে ভিতর মোচড় দিয়ে উঠলো। তাড়াতাড়ি উঠে দৌড়ে গিয়ে গাড়ি নিয়ে হসপিটালের দিকে ছুটতে লাগলো।

চলবে,,,,

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।